অভাবের ঘরে জোড়া আলো! সাঁওতালি মাধ্যমে রাজ্যে প্রথম মণিমালা, কী করে অসম্ভবকে সম্ভব করল দুই বোন?

সমস্ত প্রতিকূলতা ও অভাব-অনটনকে জয় করে এবার উচ্চমাধ্যমিকে জঙ্গলমহলের মুখ উজ্জ্বল করল এক আদিবাসী কন্যা। সাঁওতালি (অলচিকি) ভাষায় পরীক্ষা দিয়ে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিকে রাজ্যে প্রথম স্থান অধিকার করল ঝাড়গ্রামের মণিমালা বেসরা। শুধু মণিমালাই নয়, তার বোন শেফালী বেসরাও এই পরীক্ষায় অত্যন্ত ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করেছে। দুই বোনের এই জোড়া সাফল্যে খুশির হাওয়া ঝাড়গ্রামের প্রত্যন্ত গ্রামে।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, চরম আর্থিক অনটনের মধ্যেই চলত দুই বোনের পড়াশোনা। ঠিকঠাক গৃহশিক্ষক বা পড়ার আধুনিক সামগ্রী না থাকলেও শুধুমাত্র নিজেদের অদম্য ইচ্ছা আর পরিশ্রমের জোরেই মেধা তালিকায় শীর্ষস্থান ছিনিয়ে নিয়েছে মণিমালা। অলচিকি মাধ্যমে পড়াশোনা করে রাজ্যের মধ্যে প্রথম হওয়াটা যে আগামী দিনে জঙ্গলমহলের অন্য ছাত্রছাত্রীদের আরও বেশি অনুপ্রাণিত করবে, তা বলাই বাহুল্য।

নিজের এই অভাবনীয় সাফল্যে উচ্ছ্বসিত মণিমালা জানিয়েছে, তার এই লড়াইয়ের পথটা সহজ ছিল না। তবে এই সাফল্যেই সে থেমে থাকতে চায় না। উচ্চশিক্ষার আলোয় নিজেকে আরও উন্নত করে আগামী দিনে একজন শিক্ষিকা হতে চায় সে। নিজের গ্রামের এবং সমাজের পিছিয়ে পড়া শিশুদের মধ্যে শিক্ষার আলো ছড়িয়ে দেওয়াই এখন তার একমাত্র লক্ষ্য।

মণিমালা ও শেফালীর এই সাফল্যে গর্বিত তাঁদের স্কুলের শিক্ষকেরা থেকে শুরু করে গোটা জেলাবাসী। অভাব যে মেধার পথে কোনও দিনও পাঁচিল তুলতে পারে না, জঙ্গলমহলের এই দুই কন্যা আরও একবার তা প্রমাণ করে দিল। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এখন মণিমালার এই লড়াইকে কুর্নিশ জানাচ্ছেন নেটিজেনরা।

Editor001
  • Editor001