তৃণমূলের অন্দরে এবার মহাবিদ্রোহের সুর? লোকসভার মুখ্য সচেতকের পদ যেতেই ফেসবুক পোস্টে তোলপাড় রাজ্য রাজনীতি!

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচন মিটতেই এবার তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে বড়সড় রদবদল ও কোন্দল প্রকাশ্যে চলে এলো। লোকসভায় দলের মুখ্য সচেতক (Chief Whip) পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বারাসতের প্রবীণ তৃণমূল সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। আর এই পদ খোয়ানোর ঠিক পরেই আর নিজের ক্ষোভ চেপে রাখতে পারলেন না তিনি। শুক্রবার রাতে সরাসরি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও ইঙ্গিতপূর্ণ পোস্ট করে দলের শীর্ষ নেতৃত্বকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করালেন বর্ষীয়ান এই নেত্রী।
শুক্রবার রাত পৌনে ৯টা নাগাদ নিজের অফিশিয়াল ফেসবুক হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। সেখানে তিনি লিখেছেন, “’৭৬ থেকে পরিচয়, ’৮৪ থেকে পথ চলা শুরু। ৪ দশকের আনুগত্যের জন্য আজ পুরষ্কৃত হলাম।” তাঁর এই মাত্র দুই লাইনের পোস্টের ভেতরে যে তীব্র অভিমান, ক্ষোভ এবং বঞ্চনার সুর লুকিয়ে রয়েছে, তা বুঝতে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের বিন্দুমাত্র সময় লাগেনি। ‘পুরষ্কৃত হলাম’ শব্দবন্ধটি যে তিনি চরম কটাক্ষ ও ক্ষ্লেষের সুরে ব্যবহার করেছেন, তা একেবারে পরিষ্কার।
রাজনৈতিক মহলের মতে, ১৯৭৬ সাল থেকে ছাত্র রাজনীতি এবং ১৯৮৪ সাল থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দীর্ঘ চার দশকের একনিষ্ঠ সঙ্গী হিসেবে লড়াই করেছেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার। দলে যখনই কোনো বড় সংকট এসেছে, বারাসতের এই সাংসদকে সবসময় নেত্রীর পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়াতে দেখা গেছে। কিন্তু আচমকা লোকসভার মতো গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চে তাঁর এই পদ কেড়ে নেওয়াকে তিনি কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
দলীয় সূত্রে খবর, লোকসভায় দলের রাশ আরও শক্ত করতে এবং তরুণ প্রজন্মকে সামনে আনতেই এই সাংগঠনিক রদবদল করা হয়েছে। কিন্তু কাকলি দেবীর এই ফেসবুক বোমার পর তৃণমূলের অন্দরের অন্দরের ফাটল যে আরও একবার আমজনতার সামনে চলে এলো, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, প্রবীণ সাংসদের এই ক্ষোভের পর ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামে নাকি জল আরও বহুদূর গড়ায়।