ডায়মন্ড হারবারে পা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী! পুলিশি বৈঠক থেকে দলীয় কর্মসূচি, কীসের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি হচ্ছে নবান্নে?

বাংলায় রাজনৈতিক পালাবদলের পর এবার হাইভোল্টেজ শনিবারের সাক্ষী হতে চলেছে ডায়মন্ড হারবার। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পদে বসার পর এই প্রথম দক্ষিণ ২৪ পরগনার এই হেভিওয়েট কেন্দ্রে পা রাখছেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজনৈতিক মহলের মতে, লোকসভার ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রটি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর। আর সেখানেই শনিবার খোদ মুখ্যমন্ত্রী হাজির হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই পারদ চড়তে শুরু করেছে বঙ্গ রাজনীতিতে।
নবান্ন ও লালবাজার সূত্রে খবর, শনিবারের এই সফরে শুধুমাত্র দলীয় কর্মসূচি নয়, বরং জেলা এবং মহকুমা স্তরের শীর্ষ পুলিশ আধিকারিকদের নিয়ে একটি হাইপ্রোফাইল প্রশাসনিক বৈঠক করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের দায়িত্ব নিজের হাতে রাখার পর থেকেই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে অত্যন্ত কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন তিনি। ফলে, ডায়মন্ড হারবারের মতো হাই-প্রোফাইল এলাকায় পুলিশকর্তাদের সঙ্গে তাঁর এই রুদ্ধদ্বার বৈঠককে রুটিন প্রশাসনিক কাজ হিসেবে দেখতে নারাজ ওয়াকিবহাল মহল।
এলাকার আইনশৃঙ্খলার বর্তমান পরিস্থিতি, অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ প্রশাসনকে মুখ্যমন্ত্রী কোনও কড়া বার্তা দেন কি না, সেদিকেই নজর থাকবে সবার। বিশেষ করে সাম্প্রতিককালে বিভিন্ন মামলায় পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে যেভাবে সরব হয়েছেন শুভেন্দু, তাতে এই বৈঠকে পুলিশ আধিকারিকদের বেশ কিছু অস্বস্তিকর প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক বৈঠকের পাশাপাশি ওই দিনই একটি বড়সড় দলীয় কর্মসূচিতেও অংশ নেবেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানে উপস্থিত থাকবেন জেলার প্রথম সারির বিজেপি নেতৃত্ব। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে প্রশাসনিক রাশ শক্ত করা এবং অন্যদিকে বিরোধী শিবিরের দুর্ভেদ্য দুর্গে দাঁড়িয়ে নিজেদের সাংগঠনিক শক্তির জমি পরখ করে নেওয়া— শুভেন্দুর এই জোড়া কর্মসূচির নেপথ্যে রয়েছে এক সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক কৌশল। সব মিলিয়ে শনিবার ডায়মন্ড হারবারে মুখ্যমন্ত্রীর পা রাখা ঘিরে এখন চরম তৎপরতা প্রশাসন ও রাজনৈতিক অলিন্দে।