কোমা থেকে ফিরেই খুঁজলেন ৩ সন্তানকে! ১৯ বছরের তরুণীর ‘অবাস্তব’ দাবি শুনে থমকে গেলেন ডাক্তাররাও

একেই কি বলে মস্তিষ্কের মায়াজাল? ফ্রান্সের লিওঁ শহরের ১৯ বছর বয়সী তরুণী ক্লিওলা ভার্দিয়েরের সাথে যা ঘটেছে, তা শোনার পর খোদ চিকিৎসাবিজ্ঞানীরাও বিস্মিত। তিন সপ্তাহের দীর্ঘ কোমা থেকে ফিরে ক্লিওলা যখন প্রথম চোখ মেললেন, তাঁর প্রথম প্রশ্নটি ছিল— “আমার তিন সন্তান কোথায়?” উপস্থিত ডাক্তার এবং পরিবারের সদস্যরা থতমত খেয়ে যান, কারণ বাস্তবে ক্লিওলা কখনও মা-ই হননি!

৩ সপ্তাহ বনাম ৭ বছর: এক পরাবাস্তব সফর
২০২৫ সালের জুন মাসে চরম মানসিক অবসাদের জেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন ক্লিওলা। আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসকরা তাঁকে ‘মেডিকেল কোমা’য় রাখার সিদ্ধান্ত নেন। বিছানায় তাঁর দেহ নিথর পড়ে থাকলেও, অবচেতন মন ক্লিওলাকে নিয়ে গিয়েছিল অন্য এক জগতে। ক্লিওলার দাবি, কোমার ওই ২১ দিনে তিনি আসলে সাত বছরের এক সম্পূর্ণ জীবন কাটিয়েছেন।

সেই কাল্পনিক জীবনে তিনি মা হয়েছিলেন এবং তিনটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন— মিলা, মাইলস এবং মেলি। ক্লিওলা বলেন, “প্রসব যন্ত্রণার সেই কষ্ট থেকে শুরু করে সন্তানদের ঘুমপাড়ানি গান শোনানো বা খাওয়ানো— প্রতিটি মুহূর্ত আমার কাছে বাস্তবের মতোই ছিল।”

মর্মান্তিক মোড় ও স্বপ্নভঙ্গ
ক্লিওলার এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতায় এক বিষণ্ণ অধ্যায়ও ছিল। তাঁর মনে হয়েছিল তাঁর ছোট সন্তান মেলি মারা গেছে। কোমা থেকে জেগে ওঠার পর তিনি নিশ্চিত ছিলেন যে তিনি একজন মা। এমনকি তাঁর বাবা-মাকে ‘দাদা-দাদি’ হওয়ার অভিনন্দনও জানান। কিন্তু যখন তাঁকে জানানো হয় যে এমন কোনো সন্তানের অস্তিত্বই নেই, তখন কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি। দীর্ঘ এক বছর কেটে গেলেও সেই অস্তিত্বহীন সন্তানদের অভাব আজও তাঁকে তাড়িয়ে বেড়ায়।

বিজ্ঞানের ব্যাখ্যা কী?
স্নায়ু বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি আসলে ‘কোমা ড্রিমিং’ বা এক ধরনের গভীর হ্যালুসিনেশন। যখন মানুষের মস্তিষ্ক তীব্র মানসিক আঘাতের মধ্য দিয়ে যায়, তখন সে বাস্তব থেকে বাঁচতে নিজের মতো করে একটি সমান্তরাল জগত বা আখ্যান তৈরি করে নেয়। অবচেতন মনের সুপ্ত ইচ্ছা বা আবেগগুলোই সেখানে চরম বাস্তব রূপ পায়।

ক্লিওলার এই ঘটনাটি আরও একবার প্রমাণ করে দিল যে মানুষের মস্তিষ্ক আজও পৃথিবীর সবথেকে রহস্যময় এক গোলকধাঁধা।