প্রেমিকের দেহ ড্রামে ভরে নর্দমায়! স্বামী আর ভাইকে নিয়ে গৃহবধূর এই কাণ্ড দেখে থমকে গেল মুম্বাই

মুম্বাই সংলগ্ন মুমব্রা এলাকায় এক যুবকের রহস্যজনক নিখোঁজ হওয়ার ঘটনার তদন্তে নেমে লোমহর্ষক এক হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করল পুলিশ। বিবাহিত প্রেমিকার পাতা ফাঁদে পা দেওয়াই কাল হলো আরবাজ মাকসুদ আলী খান নামের এক যুবকের। প্রেমিকের থেকে টাকা হাতাতে স্বামী ও ভাইকে নিয়ে মেহজাবীন শেখ নামের এক নারী যে নারকীয় ছক কষেছিলেন, তা শুনে খোদ তদন্তকারী কর্মকর্তাদেরও চোখ কপালে উঠেছে।
পুলিশ জানিয়েছে, নিখোঁজ যুবকের মোবাইলের লোকেশন এবং আধুনিক প্রযুক্তিগত তদন্তের ওপর ভিত্তি করেই এই জটিল ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের জট খোলা সম্ভব হয়েছে।
কাজের নাম করে বেরোলেও আর ফেরেননি আরবাজ
ঘটনার সূত্রপাত চলতি বছরের ৩রা আগস্ট। মুমব্রার বাসিন্দা আরবাজ মাকসুদ আলী খান সেদিন সকালে বাড়ি থেকে দাদারে কাজের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিলেন। কিন্তু রাত গড়িয়ে গেলেও তিনি আর বাড়ি ফিরে আসেননি। পরিবারের লোকজন সম্ভাব্য সমস্ত জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও আরবাজের কোনো হদিস পাননি। কোনো উপায় না দেখে অবশেষে আরবাজের বাবা মুমব্রা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি (Missing Diary) নথিভুক্ত করেন।
ফোনের শেষ লোকেশন দেখাল ‘ভার্সোভা’
অভিযোগ পেয়েই ঘটনার তদন্তে নামে মুমব্রা পুলিশ। আরবাজের মোবাইল ফোনের কল ডিটেইলস (CDR) এবং টাওয়ার লোকেশন ট্র্যাক করা শুরু হয়। তদন্তকারীরা দেখেন, নিখোঁজ হওয়ার দিন আরবাজের ফোনের শেষ অবস্থান বা লোকেশন ছিল ভার্সোভা এলাকায়। একই সাথে পুলিশ জানতে পারে, ওই একই এলাকায় আরবাজের প্রেমিকা মেহজাবীন শেখও উপস্থিত ছিলেন।
এই তথ্যের ভিত্তিতে মেহজাবীনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়। প্রথমে ওই নারী পুলিশকে নানারকম গল্প শুনিয়ে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করলেও, অভিজ্ঞ পুলিশ আধিকারিকদের ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের মুখে বেশি সময় টিকতে পারেননি তিনি। ভেঙে পড়ে স্বীকার করেন নিজের অপরাধের কথা।
টাকা না পেয়ে নির্মম অত্যাচার, তারপর খুন
ধৃত নারী মেহজাবীন পুলিশি জেরায় স্বীকার করেছেন যে, আরবাজের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার জন্য তিনি, তাঁর স্বামী হাসান এবং ভাই তারিক শেখ মিলে একটি গোপন ব্ল্যাকমেইলিংয়ের ছক কষেছিলেন। সেই পরিকল্পনা মাফিকই টাকা দেওয়ার অজুহাতে আরবাজকে ভার্সোভার একটি নির্দিষ্ট জায়গায় ডেকে আনা হয়।
সেখানে আরবাজ টাকা দিতে অস্বীকার করলে বা ব্যর্থ হলে পরিস্থিতির রূপ বদলে যায়। অভিযুক্তরা আরবাজের হাত-পা বেঁধে ফেলে এবং একটি প্লাস্টিকের পাইপ দিয়ে তাঁর ওপর নির্মমভাবে অত্যাচার শুরু করে। মারধরের এক পর্যায়ে আরবাজের মৃত্যু হলে প্রমাণ লোপাটের জন্য তাঁর মৃতদেহটি একটি বড় সবুজ রঙের ড্রামে ভরে ফেলা হয়। এরপর রাতের অন্ধকারে মুমব্রা এলাকারই একটি নির্জন ও অন্ধকার নর্দমায় সেই ড্রামটি ফেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের জালে দুই, পলাতক স্বামীসহ আরও একজন
এই চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তির পরেই মুমব্রা পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে মূল অভিযুক্ত মেহজাবীন শেখ এবং তাঁর ভাই তারিক শেখকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে মেহজাবীনের স্বামী হাসান এবং তাদের এই অপরাধের অন্যতম সহযোগী মুজাম্মাল পাঠান এখনও পুলিশের নাগালের বাইরে। পুলিশ ধৃতদের বিরুদ্ধে খুন, অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র ও প্রমাণ লোপাটসহ একাধিক কঠোর ধারায় মামলা রুজু করেছে। পলাতক বাকি দুই আসামির খোঁজে মুম্বাই ও সংলগ্ন এলাকায় চিরুনি তল্লাশি শুরু করেছে পুলিশ।