বিধানসভায় হারের পরই কি শ্রীঘরে রথীন? সাতসকালে ইডি দপ্তরে প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী, কাঁপছে নবান্ন!

নির্বাচনের মেঘ কাটতেই দুর্নীতির কালো মেঘ ঘনাতে শুরু করেছে শাসক শিবিরের অন্দরে। দীর্ঘ টালবাহানা আর পাঁচ-পাঁচবার সমন এড়ানোর পর, অবশেষে শুক্রবার সকালে সল্টলেকের সিজিও কমপ্লেক্সে ইডি (ED) দপ্তরে হাজিরা দিলেন মধ্যমগ্রামের তৃণমূল বিধায়ক তথা রাজ্যের প্রাক্তন খাদ্যমন্ত্রী রথীন ঘোষ। পুর-নিয়োগ দুর্নীতি মামলার তদন্তে ইডি-র এই ‘অ্যাকশন’ এখন রাজ্য রাজনীতির সবচেয়ে চর্চিত বিষয়।

ভোট মিটতেই তদন্তের তেজ
নির্বাচনের প্রচার এবং প্রশাসনিক ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে এর আগে বারবার কেন্দ্রীয় সংস্থার তলব এড়িয়েছিলেন রথীনবাবু। কিন্তু বিধানসভা ভোটের ফল বেরোনোর পর এবং গত কয়েকদিনে দলের একাধিক হেভিওয়েট নেতার গ্রেফতারিতে পরিস্থিতি বদলেছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তদন্তের গতিপ্রকৃতি এবং সুজিত বসুর মতো প্রভাবশালী নেতার পতন দেখেই আর ঝুঁকি নিতে চাননি রথীন ঘোষ।

কেন ইডি-র নজরে রথীন ঘোষ?
২০২৩ সালের অক্টোবর মাস থেকেই ইডি-র স্ক্যানারে রয়েছেন এই বিধায়ক। তাঁর বাসভবনে দীর্ঘ তল্লাশি চালিয়ে ইতিপূর্বেই বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দারা। মূলত প্রোমোটার অয়ন শীলের ডেরা থেকে উদ্ধার হওয়া নথির সঙ্গে রথীন ঘোষের কোনও যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতেই এই ম্যারাথন জিজ্ঞাসাবাদের আয়োজন। তদন্তকারীদের দাবি, পুরসভাগুলিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে যে বড়সড় আর্থিক লেনদেন হয়েছে, তাতে এই নেতার বড় ভূমিকা থাকতে পারে।

একের পর এক গ্রেফতারে বিদ্ধ নবান্ন
রথীন ঘোষের এই হাজিরা শাসকদলের অস্বস্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গত কয়েকদিন ধরে দুর্নীতির জালে একের পর এক রাঘববোয়াল ধরা পড়ছেন:

সুজিত বসুর পতন: গত সোমবারই রাজ্যের প্রাক্তন দমকলমন্ত্রী সুজিত বসুকে দীর্ঘ তল্লাশির পর গ্রেফতার করেছে ইডি।

জালে পুলিশকর্তা: রথীন ঘোষ হাজির হওয়ার ঠিক আগের দিনই গ্রেফতার করা হয়েছে কলকাতা পুলিশের ডিসি তথা কালীঘাট থানার প্রাক্তন ওসি শান্তনু সিনহা বিশ্বাসকে।

অয়ন শীলের ডায়েরি ও নতুন মোড়
কলকাতা হাইকোর্টের কড়া নজরদারিতে সিবিআই ও ইডি যে যৌথ তদন্ত চালাচ্ছে, তাতে অয়ন শীলের ডায়েরি এখন সবচেয়ে বড় তুরুপের তাস। ওই ডায়েরিতে থাকা সাংকেতিক তথ্য এবং অর্থের হিসেব মেলাতেই রথীন ঘোষের বয়ান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, রথীনবাবুর দেওয়া তথ্য কি আরও বড় কোনও ‘নাম’ সামনে আনবে? নাকি সুজিত বসুর মতোই তাঁর পরবর্তী গন্তব্য হতে চলেছে জেল হেফাজত?

সকাল থেকেই সিজিও কমপ্লেক্সের বাইরে কড়া নিরাপত্তা। রথীন ঘোষের এই ম্যারাথন জেরা শেষে কী বেরিয়ে আসে, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।