মোদী ম্যাজিক এবার কর্পোরেট দুনিয়ায়! হর্ষ গোয়েঙ্কার একটি বার্তায় বদলে গেল নামী সংস্থার কাজের নিয়ম

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যয় সংকোচনের ডাক এবার প্রভাব ফেলতে শুরু করল দেশের তাবড় কর্পোরেট সংস্থাগুলোতেও। মহারাষ্ট্র সরকারের পর এবার প্রধানমন্ত্রীর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে খরচ কমানোর পথে হাঁটল দেশের অন্যতম বৃহত্তম বাণিজ্যিক গোষ্ঠী আরপিজি গ্রুপ (RPG Group)। সংস্থার চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েঙ্কা তাঁর কর্মীদের জন্য একগুচ্ছ নতুন গাইডলাইন জারি করেছেন, যা কর্পোরেট দুনিয়ায় শোরগোল ফেলে দিয়েছে।

হর্ষ গোয়েঙ্কার সোশ্যাল মিডিয়া বার্তা
সম্প্রতি একটি পোস্টের মাধ্যমে হর্ষ গোয়েঙ্কা জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রী দেশে সম্পদের দায়িত্বশীল ব্যবহার এবং অপ্রয়োজনীয় খরচ কমানোর যে আহ্বান জানিয়েছেন, আরপিজি গ্রুপ সেই আহ্বানে পূর্ণ সাড়া দিচ্ছে। তিনি বলেন, “এটি কেবল টাকা বাঁচানোর বিষয় নয়, বরং একটি দায়িত্বশীল এবং উন্নত কর্মসংস্কৃতি গড়ে তোলার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ। আমি আশা করি অন্য কর্পোরেট হাউসগুলোও এই পথ অনুসরণ করবে।”

কর্মীদের জন্য নতুন নিয়মনীতি
আরপিজি গ্রুপের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় একাধিক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের কথা বলা হয়েছে:

বাড়িতে বসেই কাজ: সংস্থাটি স্পষ্ট করে দিয়েছে, যেসব কর্মীর কাজ বাড়ি থেকে করা সম্ভব, তাঁদের অফিস আসার প্রয়োজন নেই। এতে যাতায়াত খরচ যেমন কমবে, তেমনই সাশ্রয় হবে জ্বালানি ও সময়।

ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা: কর্মকর্তাদের জন্য জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ সীমিত করা হয়েছে। এমনকি দেশের ভেতরেও বিমান যাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরিবর্তে ভার্চুয়াল মিটিং বা অনলাইন ভিডিও কনফারেন্সের ওপর জোর দিতে বলা হয়েছে।

ইলেকট্রিক যানবাহনে জোর: পরিবেশবান্ধব পরিবহনের লক্ষ্যে আরপিজি গ্রুপ এখন থেকে বৈদ্যুতিক (EV) এবং হাইব্রিড যানবাহন ব্যবহারে উৎসাহ দেবে। এমনকি ভবিষ্যতে সংস্থার জন্য কেনা বা লিজ নেওয়া গাড়িগুলো অবশ্যই ইলেকট্রিক হতে হবে বলে জানানো হয়েছে। কর্মীদের কারপুলিং বা গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শও দিয়েছেন গোয়েঙ্কা।

জাতীয় স্বার্থে কর্পোরেট উদ্যোগ
বিশেষজ্ঞদের মতে, পশ্চিম এশিয়া বা আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতায় জ্বালানির দাম ও আমদানির ওপর যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলা করতেই প্রধানমন্ত্রী এই সাশ্রয় মন্ত্র দিয়েছিলেন। মহারাষ্ট্র সরকারের পর এবার আরপিজি গ্রুপের মতো বড় সংস্থার এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রীর ‘মিতব্যয়িতা’র ডাক কেবল সাধারণ মানুষের জন্য নয়, দেশের বড় শিল্পপতিদের কাছেও সমানভাবে গ্রহণযোগ্য।

এই পদক্ষেপ একদিকে যেমন সংস্থার বার্ষিক ব্যয় কমাবে, তেমনই জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় এবং পরিবেশ দূষণ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা নেবে বলে মনে করা হচ্ছে। এখন দেখার, আরপিজি গ্রুপের এই পথ ধরে আম্বানি বা টাটার মতো অন্য বড় শিল্পগোষ্ঠীগুলোও একই ধরনের কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।