অফিসে নয়, এবার বাড়ি থেকেই কাজ! মোদীর আহ্বানে বড় ঘোষণা বিজেপি শাসিত এই রাজ্যে

জ্বালানি সাশ্রয় এবং অপচয় রুখতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আহ্বানে দেশজুড়ে সাড়া পড়ে গিয়েছে। মহারাষ্ট্রের পর এবার সেই তালিকায় নাম লেখাল উত্তর-পূর্বের রাজ্য ত্রিপুরা। রাজ্যের বিজেপি সরকার এক নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে সরকারি কর্মীদের জন্য ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ (WFH) বা বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশিকা জারি করেছে। এই নির্দেশের ফলে কয়েক হাজার সরকারি কর্মীর দৈনন্দিন অফিসে আসার ঝামেলা কমতে চলেছে।
কাদের জন্য এই নতুন নিয়ম?
ত্রিপুরা সরকারের সাধারণ প্রশাসন বিভাগ থেকে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, আপাতত গ্রুপ ‘সি’ (Group C) এবং গ্রুপ ‘ডি’ (Group D) পর্যায়ের ৫০ শতাংশ কর্মী বাড়ি থেকে কাজ করবেন। বুধবার থেকেই এই নিয়ম কার্যকর করা হয়েছে। রাজ্যের বিশেষ সচিব এ. কে. ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর জ্বালানি বাঁচানোর ডাকে সাড়া দিয়েই এই পদক্ষেপ।
অফিসে আসবে না অর্ধেক কর্মী! তৈরি হবে সাপ্তাহিক রোস্টার
সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি দফতরের প্রধানদের (HoDs) একটি সাপ্তাহিক রোস্টার তৈরি করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। নিয়মটি হবে অনেকটা এইরকম:
মোট কর্মীর অর্ধেক অর্থাৎ ৫০ শতাংশ কর্মী এক সপ্তাহ অফিসে এসে কাজ করবেন।
বাকি অর্ধেক কর্মী সেই পুরো সপ্তাহ বাড়ি থেকেই নিজের দায়িত্ব সামলাবেন।
পরের সপ্তাহে আবার দুই পক্ষের ভূমিকা অদলবদল হবে।
রোস্টার তৈরির সময় যাঁরা অফিসের কাছে থাকেন, তাঁদের প্রথম দিকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
ফোনেই মিলবে হাজিরা, মানতে হবে জরুরি শর্ত
বাড়ি থেকে কাজ করলেও কর্মীরা ছুটির আমেজে থাকতে পারবেন না। নির্দেশিকায় সাফ বলা হয়েছে, যে কর্মীরা বাড়িতে থাকবেন, তাঁদের ফোন এবং ইলেকট্রনিক যোগাযোগ মাধ্যমে সব সময় সক্রিয় থাকতে হবে। কোনো জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে বা প্রয়োজনে তলব করলে তাঁদের অবিলম্বে অফিসে হাজিরা দিতে হবে। এই নিয়ম সরকারি দফতর ছাড়াও রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা (PSU), স্থানীয় স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা এবং বিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোর ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে।
ছাড় পাবেন কারা?
ত্রিপুরায় বর্তমানে প্রায় ১ লক্ষ সরকারি কর্মচারী রয়েছেন, যার সিংহভাগই গ্রুপ ‘সি’ ও ‘ডি’ ভুক্ত। তবে জরুরি পরিষেবা যেমন— স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ বা পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের ক্ষেত্রে এই নিয়ম কার্যকর হবে না। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ‘সাশ্রয় মডেল’ জারি থাকবে বলে জানানো হয়েছে।
দেশজুড়ে পড়ছে প্রভাব
ত্রিপুরার এই পদক্ষেপের পাশাপাশি ওড়িশার রাজ্যপাল হরি বাবু কম্ভমপতিও প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে দেশবাসীকে ‘আর্থিক আত্মরক্ষা’ বা মিতব্যয়িতা অবলম্বনের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের দীর্ঘমেয়াদী সমৃদ্ধি এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই ধরনের সচেতন জনভাগীদারিত্ব অত্যন্ত জরুরি। পশ্চিম এশিয়ার অস্থিরতার আবহে ভারতের অর্থনৈতিক ভিত মজবুত রাখতে রাজ্যগুলোর এই স্বতঃস্ফূর্ত সাড়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।