আধার কার্ড নিয়ে কেন্দ্রের বিরাট ঘোষণা! বদলে গেল একগুচ্ছ নিয়ম, তালিকায় যুক্ত হলো ১৫টিরও বেশি নতুন নথি

আধার কার্ড নিয়ে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটল ইউনিক আইডেন্টিফিকেশন অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (UIDAI)। আধার এনরোলমেন্ট এবং তথ্য আপডেটের ক্ষেত্রে একগুচ্ছ নতুন নিয়ম ও সংশোধিত নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। পরিচয়পত্র থেকে শুরু করে ঠিকানা বা জন্ম তারিখ সংশোধন— এখন থেকে আধার প্রক্রিয়াকরণ হবে আরও সহজ, ডিজিটাল এবং সাধারণ মানুষের হাতের নাগালে। বিশেষ করে শিশু, প্রবীণ নাগরিক এবং রূপান্তরকামীদের জন্য আনা হয়েছে বিশেষ সুবিধা।

নথিপত্রের তালিকায় বড় রদবদল
আধার তৈরি বা তথ্য সংশোধনের জন্য এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি নথিপত্র গ্রহণ করবে সরকার। নতুন তালিকায় ই-ভোটার আইডি, ই-রেশন কার্ড, বিদ্যুৎ বা গ্যাসের বিল, এমনকি বিবাহবিচ্ছেদের শংসাপত্রকেও বৈধ নথি হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া পেনশন পেমেন্ট অর্ডার (PPO), বিমা পলিসি এবং ১০০ দিনের কাজের জব কার্ড দিয়েও এখন আধারের কাজ মেটানো যাবে।

তথ্য আপডেটে কী কী লাগবে?
আপনার আধারে নাম, ঠিকানা বা জন্ম তারিখ ভুল থাকলে নিচের যে কোনো একটি নথি দিয়ে তা ঠিক করতে পারবেন:

পাসপোর্ট, প্যান কার্ড বা ড্রাইভিং লাইসেন্স।

জন্ম শংসাপত্র (Birth Certificate) ও ভোটার কার্ড।

শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেট বা মার্কশিট।

ব্যাঙ্ক বা পোস্ট অফিস পাসবুক।

ST/SC/OBC সার্টিফিকেট।

প্রপার্টি ট্যাক্সের রসিদ বা লাইফ ইন্স্যুরেন্স পলিসি।

UIDAI-এর কড়া শর্তাবলি
তবে যে কোনো নথি জমা দিলেই হবে না। আধার কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, নথিটি অবশ্যই বর্তমানে বৈধ হতে হবে। নথিতে আবেদনকারীর নাম ও ছবি স্পষ্ট থাকা বাধ্যতামূলক। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, সহায়ক নথিতে আপনার নাম যেভাবে লেখা আছে, আধার কার্ডেও ঠিক সেভাবেই নাম নথিভুক্ত হবে; সেখানে কোনো অতিরিক্ত তথ্য যোগ করা যাবে না।

শিশুদের জন্য বিশেষ নিয়ম
৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে ‘পরিবারের প্রধান’-এর (HoF) তথ্যের ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন হবে। এক্ষেত্রে জন্ম সার্টিফিকেটের পাশাপাশি বাবা-মা বা অভিভাবকের নথি জমা দেওয়া এখন বাধ্যতামূলক। ৫ থেকে ১৮ বছর বয়সীদের ক্ষেত্রে পরিবারের প্রধানের তথ্য না থাকলেও অন্যান্য বৈধ নথির ভিত্তিতে আধার করা যাবে।

রূপান্তরকামী ও বিশেষ শ্রেণির জন্য সুবিধা
২০১৯ সালের আইন অনুযায়ী ইস্যু করা রূপান্তরকামী পরিচয়পত্রকে এখন আধারের জন্য বৈধ নথি হিসেবে গণ্য করা হবে। এছাড়া জেলবন্দিদের জন্য জেলের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার সিলমোহরযুক্ত ‘প্রিজনার ইন্ডাকশন ডকুমেন্ট’ এবং অনাথ আশ্রম বা আশ্রয়কেন্দ্রের বাসিন্দাদের জন্য বিশেষ সার্টিফিকেটের মাধ্যমে আধার কার্ড তৈরির পথ প্রশস্ত করা হয়েছে।

সহজ কথায়, আধার ব্যবস্থাকে আরও জনমুখী করতে নথিপত্রের জট খুলে দিল কেন্দ্র। ফলে এখন থেকে পরিচয় প্রমাণের অভাবে আর কাউকে আধারের পরিষেবা থেকে বঞ্চিত হতে হবে না।