বুলেট চালিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী! মহারাষ্ট্রের মন্ত্রীদের জন্য কি এবার লোকাল ট্রেনই ভরসা?

পশ্চিম এশিয়ার অস্থির পরিস্থিতির জেরে দেশজুড়ে জ্বালানি সাশ্রয়ের ডাক দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। সেই আহ্বানে সাড়া দিয়ে নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিল মহারাষ্ট্রের বিজেপি সরকার। মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবিশ সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি সম্পদ ও জ্বালানি ব্যবহারে ‘কিপটেমি’ করতে হবে মন্ত্রী থেকে আমলা— সকলকেই। অপচয় রুখতে একগুচ্ছ কড়া নির্দেশিকা জারি করেছে রাজ্য সরকার।
বুলেট চালিয়ে বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রী, সঙ্গী মন্ত্রীরাও
নতুন সরকারি নির্দেশিকা যে কেবল নিচুতলার কর্মীদের জন্য নয়, তা হাতেকলমে প্রমাণ করলেন মুখ্যমন্ত্রী নিজেই। এদিন প্রথাগত বিলাসবহুল কনভয় ছেড়ে নিজেই বুলেট চালিয়ে বিধানভবনে পৌঁছন দেবেন্দ্র ফড়নবিশ। তাঁর সঙ্গে বাইকে চড়ে আসতে দেখা যায় ক্যাবিনেট মন্ত্রী আশিস শেলারকেও। অন্যদিকে, উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এবং শিল্পমন্ত্রী উদয় সামন্ত পেট্রোল-ডিজেলের গাড়ি ছেড়ে ইলেকট্রিক কার বা ই-ভানে যাতায়াত শুরু করেছেন।
ভিআইপি কনভয়ে ৫০ শতাংশ কাটছাঁট
নতুন গাইডলাইনে জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী, মন্ত্রী এবং উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের নিরাপত্তার বহরে থাকা গাড়ির সংখ্যা এক ধাক্কায় ৫০ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। আধিকারিকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ব্যক্তিগত গাড়ির বদলে যথাসম্ভব লোকাল ট্রেন, বাস বা পাবলিক ট্রান্সপোর্ট ব্যবহার করতে।
বিলাসবহুল সফরে ‘ব্রেক’
রাজ্য সরকারের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী:
সরকারি ও চার্টার্ড বিমান: মন্ত্রীদের জন্য সরকারি বা চার্টার্ড প্লেন ব্যবহারে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। অত্যন্ত জরুরি পরিস্থিতিতে কেবল মুখ্যমন্ত্রীর বিশেষ অনুমতি পেলেই এই সুবিধা পাওয়া যাবে।
বিদেশ সফর: আধিকারিক ও মন্ত্রীদের সমস্ত অপ্রয়োজনীয় বা কম গুরুত্বপূর্ণ বিদেশ সফর আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
ভার্চুয়াল মিটিং: ক্যাবিনেট মন্ত্রী নীতেশ রাণে মৎস্য ও বন্দর বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছেন, এখন থেকে সমস্ত বৈঠক অনলাইনেই সারতে হবে। এর ফলে যাতায়াতের খরচ ও জ্বালানি— দুই-ই বাঁচবে।
পরিবেশ ও পকেটের চিন্তা
জ্বালানি সাশ্রয়ের পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও জোর দিচ্ছে ফড়নবিশ সরকার। নির্দেশিকায় পেট্রোল-ডিজেলের পরিবর্তে ইলেকট্রিক যানবাহন (EV) ব্যবহারে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সরকারি দফতরগুলোতে বিদ্যুৎ সাশ্রয় করা, পিএনজি গ্যাস এবং ‘সূর্যঘর’ প্রকল্পের মাধ্যমে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
মূলত সরকারি কোষাগারের খরচ কমানো এবং আন্তর্জাতিক বাজারের জ্বালানি সঙ্কট মোকাবিলায় মহারাষ্ট্র সরকারের এই ‘সাশ্রয় মডেল’ এখন গোটা দেশের নজর কেড়েছে।