সেনাবাহিনীকে বিদ্রুপ! মহুয়া মৈত্রের মন্তব্যে দেশজুড়ে তোলপাড়, এবার কি শ্রীঘরে যাবেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ?

জাতীয় রাজনীতিতে বিতর্ক আর মহুয়া মৈত্র— দুই যেন সমার্থক। সংসদ পদ ফিরে পাওয়ার পর যখন নতুন করে কাজ শুরু করেছেন কৃষ্ণনগরের তৃণমূল সাংসদ, ঠিক তখনই এক পুরনো বিতর্কে আইনি বিপাকে জড়ালেন তিনি। ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে কুরুচিকর মন্তব্যের অভিযোগে মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে কৃষ্ণনগর আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে নদিয়ার জেলা রাজনীতিতে নতুন করে শোরগোল পড়ে গিয়েছে।
ঠিক কী অভিযোগ?
ঘটনার সূত্রপাত গত এপ্রিল মাসে। অভিযোগকারী গৌরাঙ্গ দে, যিনি নদিয়ার ভীমপুরের বাসিন্দা। তাঁর দাবি, পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ভারতীয় সেনাবাহিনী যখন অত্যন্ত সফল ‘অপারেশন সিঁদুর’ পরিচালনা করেছিল, সেই সময় সেনাকর্মীদের কৃতিত্বকে খাটো করে বিদ্রুপাত্মক ও অবমাননাকর মন্তব্য করেছিলেন মহুয়া মৈত্র। গৌরাঙ্গ বাবুর মতে, যে বীর জওয়ানদের আত্মত্যাগে দেশবাসী গর্বিত, একজন জনপ্রতিনিধি হয়ে তাঁদের নিয়ে এমন শব্দপ্রয়োগ সমগ্র ভারতবাসীর কাছে চরম অপমানজনক।
আদালতের দ্বারস্থ নাগরিক
সাংসদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়ে আইনি লড়াই শুরু করেছেন ওই ব্যক্তি। আদালতের বাইরে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “একজন সাংসদ হিসেবে ভারতীয় সেনাবাহিনীকে নিয়ে এই ধরনের অসংবেদনশীল মন্তব্য কাম্য নয়। তিনি গোটা বিশ্বের কাছে আমাদের দেশের বাহিনীকে ছোট করেছেন। এই অপমানের শেষ দেখা জরুরি ছিল, তাই আমি আদালতের দ্বারস্থ হয়েছি।”
চাপে মহুয়া মৈত্র?
অভিযোগকারীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, মহুয়া মৈত্রকে তাঁর এই কুরুচিকর মন্তব্যের জন্য প্রকাশ্য ক্ষমা চাইতে হবে। উল্লেখ্য, ক্যাশ ফর কোয়ারি থেকে শুরু করে একাধিক ইস্যুতে এর আগেও জাতীয় রাজনীতির শিরোনামে এসেছেন মহুয়া। তবে এবার সরাসরি সেনাবাহিনীর আত্মমর্যাদায় আঘাত হানার অভিযোগ তাঁর ওপর আইনি ও রাজনৈতিক চাপ কতটা বাড়ায়, এখন সেটাই দেখার।
প্রতিক্রিয়াহীন তৃণমূল
সাংসদের বিরুদ্ধে মামলা রুজু হলেও তৃণমূল কংগ্রেস বা মহুয়া মৈত্রের পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। বিরোধীরা এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে ময়দানে নামার প্রস্তুতি নিলেও শাসক শিবির আপাতত ‘অপেক্ষা ও পর্যবেক্ষণ’ (Wait and Watch) নীতি নিয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।
সেনাবাহিনী নিয়ে করা এই মন্তব্যের জল কতদূর গড়ায়, সেদিকেই এখন নজর গোটা রাজ্যের।