৫০০-তে ৪০০ পেয়েও অখুশি? পরের বছর আবার উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসার সুযোগ!

পরীক্ষা শেষ হওয়ার ঠিক ৭৬ দিনের মাথায় প্রকাশিত হলো ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিকের ফলাফল। এ বছর সাফল্যের হার নজরকাড়া— ৯১.২৩ শতাংশ। কিন্তু সাফল্যের এই ভিড়েও অনেক পড়ুয়া হয়তো নিজের প্রাপ্ত নম্বর দেখে পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। তাঁদের জন্যই এবার বড়সড় এক ‘সারপ্রাইজ’ নিয়ে এলো পশ্চিমবঙ্গ উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদ।

নম্বর বাড়ানোর মেগা সুযোগ: ‘ইমপ্রুভমেন্ট’ পদ্ধতি

সংসদের সভাপতি পার্থ কর্মকার ফলাফল প্রকাশ করার সময় এক যুগান্তকারী ঘোষণা করেছেন। তিনি জানান, উচ্চ মাধ্যমিকের নতুন সেমিস্টার পদ্ধতিতে এবার থেকে নম্বর ইমপ্রুভমেন্টের সুযোগ পাবেন পরীক্ষার্থীরা। ধরুন, কোনো পড়ুয়া ৫০০ নম্বরের পরীক্ষায় ৪০০ পেয়েছেন, কিন্তু তাঁর প্রত্যাশা ছিল ৪৫০। সেক্ষেত্রে তিনি চাইলে আবারও পরীক্ষায় বসে নিজের স্কোর বাড়িয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

নিয়ম কী?

তবে এই সুযোগ নেওয়ার জন্য একটি শর্ত রয়েছে। সভাপতি স্পষ্ট করে দিয়েছেন:

  • মার্কশিট স্যারেন্ডার: যদি কোনো পড়ুয়া পরের বছর ফের পরীক্ষায় বসতে চান, তবে তাঁকে এ বছরের পাওয়া অরিজিনাল মার্কশিটটি সংসদের কাছে জমা বা ‘স্যারেন্ডার’ করতে হবে।

  • পরের বছর পরীক্ষা: মার্কশিট জমা দেওয়ার পর আগামী বছরের পরীক্ষার সময় তিনি পুনরায় পরীক্ষায় বসতে পারবেন।

বিতর্ক ও সংসদের ভাবনা

যদিও এই পদ্ধতি নিয়ে শিক্ষামহলে দ্বিমত তৈরি হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, স্রেফ কয়েক নম্বর বাড়ানোর জন্য কোনো পড়ুয়া কি নিজের জীবনের একটা মূল্যবান বছর নষ্ট করতে চাইবেন? এ প্রসঙ্গে পার্থ কর্মকার বলেন, “এটি সম্পূর্ণভাবে পরীক্ষার্থীর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। আমরা একটি নতুন সুযোগ বা রাস্তা খুলে দিলাম মাত্র। আগামী দিনে এই প্রক্রিয়া আরও সহজ করা যায় কি না, তা নিয়ে সরকারের সঙ্গে আলোচনা চলছে।”

এক বছর অপেক্ষা করতে না চাইলে কী করবেন?

যাঁরা এক বছর অপেক্ষা করতে চান না, তাঁদের জন্য পিপিএস (PPS) এবং পিপিআর (PPR) অর্থাৎ রিভিউ এবং স্ক্রুটিনির পথ খোলাই থাকছে। সাধারণ ও তৎকাল— দুই পদ্ধতিতেই অনলাইনে আবেদন করা যাবে।

আবেদনের শেষ তারিখ:

  • তৎকাল (পিপিএস/পিপিআর): ১৭ মে রাত ১২টা পর্যন্ত।

  • সাধারণ (পিপিএস/পিপিআর): ২৮ মে রাত ১২টা পর্যন্ত।

নির্ধারিত ফি অনলাইনে জমা দিয়েই পড়ুয়ারা তাঁদের উত্তরপত্র পুনরায় পরীক্ষার জন্য আবেদন করতে পারবেন। ফলে নম্বর নিয়ে খচখচানি থাকলে পড়ুয়ারা এখন আর কেবল ভাগ্যের দোহাই না দিয়ে সরাসরি সংসদের দেওয়া এই সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারবেন।