তীব্র দাবদাহে পকেট গড়ের মাঠ? এবার গরমেও মিলবে বিমার টাকা! জেনে নিন এই বিশেষ ‘হিট ইনস্যুরেন্স’ কী

দেশে উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাওয়া গরম এখন আর শুধু শারীরিক অস্বস্তির কারণ নয়, বরং মধ্যবিত্তের পকেটেও বড়সড় টান ফেলছে। কাঠফাটা রোদ আর ‘হিটওয়েভ’ বা লু-এর দাপটে একদিকে যেমন বাড়ছে চিকিৎসার খরচ, অন্যদিকে বাইরে কাজ করা মানুষের রোজগারও থমকে যাচ্ছে। এই জোড়া সংকট থেকে দেশবাসীকে স্বস্তি দিতে ভারতে এখন দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে এক অভিনব ধারণা— ‘হিট ইনস্যুরেন্স’ (Heat Insurance)

গরম বাড়লে বিমার টাকা? শুনতে অবাক লাগলেও এটাই সত্যি!

সাধারণ হেলথ ইনস্যুরেন্স বা স্বাস্থ্য বিমার ক্ষেত্রে সাধারণত হাসপাতালে ভর্তি হলে তবেই চিকিৎসার টাকা পাওয়া যায়। কিন্তু ‘হিট ইনস্যুরেন্স’ কাজ করে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক পদ্ধতিতে, যাকে বলা হয় ‘প্যারামেট্রিক মডেল’। অর্থাৎ, আপনার এলাকার তাপমাত্রা যদি আবহাওয়া দপ্তরের দেওয়া একটি নির্দিষ্ট সীমা (যেমন ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ছাড়িয়ে যায়, তবে কোনো শারীরিক অসুস্থতা বা হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার প্রমাণ ছাড়াই আপনি বিমার টাকা দাবি করতে পারেন।

কাদের জন্য এই বিমা সবথেকে জরুরি?

বিশেষ করে যারা খোলা আকাশের নিচে কাজ করেন— যেমন কৃষক, হকার, ডেলিভারি পার্টনার বা নির্মাণ শ্রমিক— চরম গরমে তাদের কাজ বন্ধ রাখতে হয়। এই ইনস্যুরেন্স পলিসি সেইসব শ্রমজীবী মানুষের আয়ের ক্ষতিপূরণ হিসেবে কাজ করে। এছাড়া অত্যাধিক গরমের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়লে সেই আর্থিক বোঝা সামাল দিতেও এই বিমা কার্যকরী।

কীভাবে কাজ করে এই পলিসি?

১. তাপমাত্রা ট্র্যাকিং: ইনস্যুরেন্স কোম্পানিগুলো নির্দিষ্ট এলাকার স্যাটেলাইট ডেটা বা আবহাওয়া দপ্তরের তাপমাত্রার ওপর নজর রাখে। ২. স্বয়ংক্রিয় ক্ষতিপূরণ: যদি টানা কয়েকদিন তাপমাত্রা নির্দিষ্ট মাত্রার ওপরে থাকে, তবে পলিসি অনুযায়ী বিমাকারী ব্যক্তিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। ৩. রোজগার সুরক্ষা: এটি কেবল চিকিৎসার খরচ নয়, বরং কাজ করতে না পারার কারণে হওয়া আর্থিক ক্ষতি মেটাতেও সাহায্য করে।

ভারতে যেভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে গরম বাড়ছে, তাতে আগামী দিনে এই ‘হিট ইনস্যুরেন্স’ আমজনতার জন্য একটি অত্যাবশ্যকীয় ঢাল হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। আপনিও কি আপনার এলাকা বা কাজের কথা ভেবে এমন কোনো সুরক্ষার কথা ভাবছেন? আজকের এই বদলে যাওয়া