মুলায়ম-পুত্র প্রতীকের মৃত্যুতে নয়া মোড়! ময়নাতদন্তের রিপোর্টে মিলল শরীরে রহস্যময় আঘাতের চিহ্ন

সমাজবাদী পার্টির প্রতিষ্ঠাতা তথা উত্তরপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মুলায়ম সিং যাদবের পরিবারে শোকের ছায়া। ৩৮ বছর বয়সী ছোট ছেলে প্রতীক যাদবের আকস্মিক মৃত্যুতে ভেঙে পড়েছে গোটা পরিবার। তবে শোকের আবহের মধ্যেই প্রতীকের মৃত্যুকে ঘিরে দানা বাঁধছে একরাশ রহস্য। লখনউয়ের কিং জর্জ মেডিকেল ইউনিভার্সিটি (কেজিএমইউ)-র প্রকাশ করা ময়নাতদন্তের রিপোর্টে এমন কিছু তথ্য উঠে এসেছে, যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা।

মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী? ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রতীকের মৃত্যুর মূল কারণ ‘ম্যাসিভ পালমোনারি থ্রম্বোএম্বোলিজম’। সহজ ভাষায় বলতে গেলে, তার ফুসফুসে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছিল। এর ফলে শ্বাসপ্রশ্বাস এবং হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া আচমকা বন্ধ হয়ে যায়, যা অত্যন্ত দ্রুত তাকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেয়।

শরীরে রহস্যময় আঘাতের চিহ্ন চিকিৎসকদের এই রিপোর্টে সবথেকে চাঞ্চল্যকর বিষয়টি হলো প্রতীকের শরীরে পাওয়া ছয়টি আঘাতের চিহ্ন। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই জখমগুলো ‘অ্যান্টেমর্টেম’ বা মৃত্যুপূর্ব সময়ের। অর্থাৎ, মারা যাওয়ার ঠিক আগে বা মৃত্যু চলাকালীন সময়েই এই আঘাতগুলো লেগেছিল। মৃতদেহে এই ধরনের জখম মেলায় স্বাভাবিকভাবেই তদন্তের মোড় ঘুরে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরবর্তী পদক্ষেপ ও ভিসেরা তদন্ত মৃত্যুর নেপথ্যে অন্য কোনো রহস্য বা রাসায়নিক কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে অত্যন্ত সতর্ক পদক্ষেপ নিচ্ছেন চিকিৎসকরা। হিস্টোপ্যাথলজিক্যাল পরীক্ষার জন্য তার হৃদপিণ্ড এবং ফুসফুসের থ্রম্বোএম্বোলিক উপাদানগুলো ফরমালিনে বিশেষ পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করা হয়েছে। এছাড়া, বিস্তারিত রাসায়নিক বিশ্লেষণের জন্য প্রতীকের ‘ভিসেরা’ (অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গের নমুনা) সংশ্লিষ্ট পুলিশ কমিশনারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এই রিপোর্ট হাতে এলেই মৃত্যুর প্রকৃত ছবিটা পরিষ্কার হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

শেষকৃত্য ও শোকের পরিবেশ পরিবার সূত্রে জানানো হয়েছে, আগামী কাল অর্থাৎ বৃহস্পতিবার (১৪ মে) দুপুর ১২:৩০ মিনিটে লখনউয়ের পিপড়া ঘাটে প্রতীক যাদবের শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। বর্তমানে রাজনৈতিক মহলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের নজর আটকে রয়েছে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত রিপোর্টের ওপর। মেডিকেল রিপোর্ট এবং রাসায়নিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলো এখন পরবর্তী তদন্ত প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।