উল্টে গেল বাংলার তখত! খাস কলকাতায় দাঁড়িয়ে শুভেন্দুর হুঙ্কার, ভবানীপুর জয়ের পর প্রথমবার মিছিলে নজিরবিহীন উন্মাদনা

বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে এ এক অভূতপূর্ব মুহূর্ত। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে নবান্নের দখল নিয়েছে বিজেপি। আর এই ঐতিহাসিক পালাবদলের কান্ডারি হিসেবে যাঁর নাম সবথেকে বেশি চর্চায়, সেই শুভেন্দু অধিকারী আজ তাঁর অন্যতম বড় জয়ের ক্ষেত্র ভবানীপুরে ‘ধন্যবাদ জ্ঞাপন’ মিছিলে সামিল হলেন। খাস মুখ্যমন্ত্রীর খাসতালুক হিসেবে পরিচিত এই আসনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে আজ ‘মুখ্যমন্ত্রী’ হিসেবেই ওই এলাকায় পা রাখলেন শুভেন্দু।

ভবানীপুরে গেরুয়া আবির: বিজয় মিছিল শুরু হতেই কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় ভবানীপুরের পথঘাট। যে এলাকা একসময় তৃণমূলের অপরাজেয় দুর্গ বলে পরিচিত ছিল, আজ সেখানেই ‘শুভেন্দু অধিকারী জিন্দাবাদ’ স্লোগানে আকাশ-বাতাস মুখরিত হয়। কয়েক হাজার দলীয় কর্মী-সমর্থক নিয়ে মিছিলে হাঁটেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী। রাস্তার দুধারে সাধারণ মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। শুভেন্দু অধিকারীকে ফুল ছুঁড়ে অভিনন্দন জানান স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশ।

মিছিল থেকে কড়া বার্তা: ধন্যবাদ জ্ঞাপন মিছিলে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী বলেন, “ভবানীপুর দেখিয়ে দিয়েছে বাংলার মানুষ আর পিসি-ভাইপোর সিন্ডিকেট রাজ মেনে নিতে রাজি নয়। নন্দীগ্রামের পর ভবানীপুরের মানুষ আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন, তার মান আমি অক্ষরে অক্ষরে পালন করব। এই জয় আমার একার নয়, এই জয় বাংলার সেই প্রতিটি মানুষের যারা গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে চেয়েছিলেন।”

রাজনৈতিক সমীকরণ: ২০২৬-এর এই বিধানসভা নির্বাচনে শুভেন্দু অধিকারীর জয় কেবল একটি আসনের জয় নয়, বরং এটি রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রতীক। এর আগে ২০২১-এ নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারনোর পর এবার তাঁর পুরনো আসন ভবানীপুরেও শুভেন্দুর কাছে বড় ব্যবধানে হার স্বীকার করতে হয়েছে তৃণমূল নেত্রীকে। বিশ্লেষকদের মতে, ভবানীপুরের এই জয় বিজেপির জন্য নৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

শপথের পর প্রথম বড় কর্মসূচি: ব্রিগেডে শপথ নেওয়ার পর এটাই ছিল কলকাতায় শুভেন্দু অধিকারীর প্রথম বড় মাপের বিজয় মিছিল। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তিনি বুঝিয়ে দিলেন, রাজধানী কলকাতা এবং শহরতলির রাজনীতিতেও এখন বিজেপির প্রভাব অনস্বীকার্য। মিছিলের জেরে দীর্ঘক্ষণ দক্ষিণ কলকাতার ট্রাফিক ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও, সাধারণ মানুষের মধ্যে দেখা গিয়েছে এক অন্যরকম উদ্দীপনা।