সোনা-রুপার দামে অগ্নিকাণ্ড! সরকারের এক সিদ্ধান্তে রেকর্ড ভাঙল বাজার, পকেটে টান আমজনতার?

শেয়ার বাজারে আজ ধাতব স্টকের জয়জয়কার! বুধবার, ১৩ই মে বিনিয়োগকারীদের জন্য এক স্মরণীয় দিন হয়ে থাকল। সোনা, রুপা এবং অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর ওপর ভারত সরকার আমদানি শুল্ক এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়ার পরই বাজারজুড়ে তৈরি হয়েছে ব্যাপক তেজিভাব। সরকারের এই ‘মাস্টারস্ট্রোক’-এর ফলে হিন্দুস্তান জিঙ্ক থেকে শুরু করে বেদান্ত—প্রতিটি ধাতব স্টকেই দেখা গেছে উপচে পড়া ভিড়।

ধাতব শেয়ারে রেকর্ড উল্লম্ফন
বুধবার বাজার খোলার পর থেকেই নিফটি মেটাল ইনডেক্স (Nifty Metal Index) প্রায় ১.৩% লাফিয়ে বেড়ে যায়। বিনিয়োগকারীদের ঝোঁক এতটাই বেশি ছিল যে এই ইনডেক্সের অন্তর্ভুক্ত প্রায় প্রতিটি শেয়ারই সবুজ সংকেতে লেনদেন করেছে।

হিন্দুস্তান জিঙ্ক: ৫% পর্যন্ত বেড়ে দিনের সেরা লাভবান শেয়ারে পরিণত হয়েছে।

হিন্দুস্তান কপার: ৩%-এর বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যান্য: বেদান্ত, ন্যাশনাল অ্যালুমিনিয়াম এবং হিন্দালকোর শেয়ারের দামও ১.৫%-এর বেশি বেড়েছে।

সোনা ও রুপায় ‘আপার সার্কিট’
ধাতুর বাজারে আজ কার্যত সুনামি দেখা গেছে। মূল্যবান ধাতু কেনার হিড়িক এতটাই ছিল যে সোনা ও রুপা উভয়ই ৬% আপার সার্কিট স্পর্শ করেছে। এমসিএক্স (MCX) বাজারে প্রতি ১০ গ্রাম সোনার দাম ৯,২০৬ টাকা বেড়ে পৌঁছেছে ১,৬২,৬৪৮ টাকায়। অন্যদিকে, রুপার দাম প্রতি কেজিতে ১৬,৭৪৩ টাকা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২,৯৫,৮০৫ টাকায়।

হঠাৎ কেন এই শুল্ক বৃদ্ধি?
রুপি বা ভারতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করতে এবং সোনার যথেচ্ছ আমদানি রুখতে সরকার এই কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী:

১০% বেসিক কাস্টমস ডিউটি এবং ৫% কৃষি পরিকাঠামো ও উন্নয়ন সেস (AIDC) মিলিয়ে মোট ১৫% শুল্ক ধার্য করা হয়েছে। ইতিপূর্বে যা ছিল মাত্র ৬%।
২০২৬ সালের ১৩ই মে থেকেই এই নতুন কর ব্যবস্থা কার্যকর হয়েছে। মূল লক্ষ্য হলো বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর থেকে চাপ কমানো।

গয়নার বাজারে অশনি সংকেত?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই শুল্ক বৃদ্ধির ফলে দেশীয় বাজারে গয়নার দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে। শুধু সোনা বা রুপাই নয়, প্ল্যাটিনাম এবং গয়নার যন্ত্রাংশের ওপরও এই উচ্চ কর কার্যকর হবে। এর ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে গয়নার চাহিদা সাময়িকভাবে কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। তবে এর ফলে পুরনো সোনা বা গয়না রিসাইকেল করার প্রবণতা বাড়বে।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি এবং বিশ্ববাজারে অস্থিরতার মাঝে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা এবং বিদেশ ভ্রমণ এড়িয়ে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। উল্লেখ্য, ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে ভারতের সোনা আমদানি রেকর্ড ৭১.৯৮ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছিল, যা সামাল দিতেই এই জরুরি পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র।