১০০ দিনের বেশি উধাও! পুলিশের চাকরিতে থেকেও নিখোঁজ বহু অফিসার, কানপুরে শুরু হলো গণ-বরখাস্ত

শৃঙ্খলা ভঙ্গের বিরুদ্ধে এবার ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিল কানপুর পুলিশ কমিশনারেট। দীর্ঘদিন ধরে কোনো আগাম তথ্য না দিয়ে ডিউটিতে অনুপস্থিত থাকা পুলিশকর্মীদের বিরুদ্ধে এক নজিরবিহীন ও কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছেন পুলিশ কমিশনার সংকল্প শর্মা। এই কড়া নির্দেশের জেরে একসাথে ১৪ জন পুলিশকর্মীকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে এবং আরও ১১৮ জনের বিরুদ্ধে জারি হয়েছে ‘শোকজ’ নোটিশ।
মাসের পর মাস ‘নিখোঁজ’ সাব-ইন্সপেক্টররা!
বিভাগীয় তদন্তে যে তথ্য সামনে এসেছে, তা শুনে চক্ষু চড়কগাছ প্রশাসনের। দেখা গেছে, অনেক পুলিশকর্মী মাত্র দুই থেকে পাঁচ দিনের ছুটি নিয়েছিলেন, কিন্তু মাস পার হয়ে গেলেও তাঁরা আর ডিউটিতে ফেরেননি। বরখাস্ত হওয়া তালিকার শীর্ষে রয়েছেন দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই)। তাঁদের মধ্যে একজন গত ৩৭ দিন ধরে নিখোঁজ, আর অন্যজন টানা ১৫২ দিন ধরে কোনো পাত্তা নেই।
তবে রেকর্ড গড়েছেন কনস্টেবল দুষ্যন্ত, যিনি গত ১৬৮ দিন ধরে কোনো তথ্য ছাড়াই ডিউটিতে অনুপস্থিত। তালিকায় রয়েছেন সাব-ইন্সপেক্টর মনু সিং-ও, যিনি গত ৫৪ দিন ধরে বেপাত্তা। প্রশাসনের নজর এড়াতে এভাবে মাসের পর মাস ডিউটি ফাঁকি দেওয়াকেই বড় অপরাধ হিসেবে দেখছে বিভাগ।
পুরনো রেকর্ডেও ছিল ফাঁকিবাজির চিহ্ন
ঘটনাটি নতুন নয়। এর আগেও ২০২৫ সালের জুলাই মাসে ১৬১ জন পুলিশ কর্মীর উপস্থিতি নিয়ে একটি বড়সড় তদন্ত হয়েছিল। সেখানেও দেখা গিয়েছিল যে, বিপুল সংখ্যক কর্মী অনুমতি ছাড়াই কাজে গরহাজির ছিলেন। বারংবার চিঠি পাঠিয়ে এবং সতর্ক করেও অবস্থার কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় এবার সরাসরি বরখাস্তের পথে হাঁটল প্রশাসন।
কমিশনারের সাফ কথা: বরদাস্ত হবে না বিশৃঙ্খলা
পুলিশ কমিশনার সংকল্প শর্মা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “পুলিশ বিভাগে শৃঙ্খলাহীনতার কোনো জায়গা নেই।” বর্তমানে যে ১১৮ জনকে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তাঁদের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে অনুপস্থিতির সন্তোষজনক কারণ দর্শাতে হবে। যদি কেউ অসুস্থতা বা অন্য কোনো গুরুতর পরিস্থিতির অকাট্য প্রমাণ দিতে না পারেন, তবে তাঁদেরও সাময়িক বরখাস্ত এবং বিভাগীয় তদন্তের মুখোমুখি হতে হবে।
এই গণ-বরখাস্তের ঘটনায় উত্তরপ্রদেশ পুলিশ মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। আইন-শৃঙ্খলার কাজে এই গাফিলতি প্রশাসনিক স্তরে যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছিল, তা রুখতেই এই ‘অপারেশন ক্লিনআপ’ শুরু হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।