বিধানসভার সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম! ২০২৬-এ শুভেন্দুর অন্দরে কি ২০১৪-র মোদী? শোরগোল রাজ্যে

রাজনীতির চাকা ঘুরল ঠিক ১২ বছর পর। ২০১৪ সালে সংসদ ভবনে প্রবেশের আগে ঠিক যে কায়দায় দিল্লির সংসদের সিঁড়িতে মাথা ঠেকিয়ে প্রণাম করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, ২০২৬-এর মে মাসে সেই একই দৃশ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটল পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভায়। এদিন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে বিধানসভা ভবনে প্রবেশের আগে লাল গালিচার ওপর হাঁটুমুড়ে বসে সিঁড়িতে প্রণাম করলেন শুভেন্দু অধিকারী।
মোদীর পদাঙ্ক অনুসরণ শুভেন্দুর:
গার্ড অফ অনার গ্রহণের পর এদিন এক আবেগঘন মুহূর্তের সাক্ষী থাকল বিধানসভা চত্বর। প্রধানমন্ত্রীর সেই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণ করিয়ে দিয়ে শুভেন্দু অধিকারী বিধানসভাকে ‘গণতন্ত্রের মন্দির’ হিসেবে শ্রদ্ধা জানান। এর আগে ব্রিগেডের শপথগ্রহণ মঞ্চেও বঙ্গবাসীর উদ্দেশে একইভাবে হাঁটুমুড়ে প্রণাম করতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। রাজনৈতিক মহলের মতে, প্রশাসনিক প্রধান হিসেবে এই আচরণের মধ্য দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী আসলে তাঁর বিনয় এবং মোদী-আদর্শের প্রতি অবিচল আস্থার বার্তাই দিতে চেয়েছেন।
আজ থেকে বিধানসভায় শপথ উৎসব:
আজ বুধবার এবং আগামিকাল বৃহস্পতিবার— এই দু’দিন ধরে নবনির্বাচিত ২৯০ জন বিধায়ক শপথ নেবেন। প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন। উল্লেখ্য, রাজ্যে ২৯৪টি আসন থাকলেও মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীর দু’টি করে আসনে জয়ী হওয়ায় এবং ফলতায় উপনির্বাচন বাকি থাকায় আপাতত ২৯০ জন বিধায়কের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
শপথের রূপরেখা ও শক্তিবিন্যাস:
এবারের বিধানসভা নির্বাচনে ২০৭টি আসন জিতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাধিক্য পেয়েছে বিজেপি। অন্যদিকে বিরোধী আসনে বসা তৃণমূল কংগ্রেসের ঝুলিতে গিয়েছে ৮০টি আসন। এছাড়া কংগ্রেস ২টি, সিপিআইএম ১টি, আইএসএফ ১টি এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টি (এজেইউপি) ২টি আসনে জয়ী হয়েছে।
আজ প্রথম দিন উত্তরবঙ্গের জেলাগুলি এবং মুর্শিদাবাদের জয়ী প্রার্থীদের শপথের মাধ্যমে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। দ্বিতীয়ার্ধে নদীয়া এবং দুই ২৪ পরগনার বিধায়করা শপথ নেবেন। প্রশাসনিক কাজের গতি বাড়াতে এর মধ্যেই মন্ত্রিসভার রোডম্যাপ তৈরির কাজে নেমে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।