২০৭ নয়, লক্ষ্য ২০৮! নবান্নের কাজ সেরে রাতেই গোপন বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু, কী হতে চলেছে ফলতায়?

গত ৪ মে পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ফলাফলে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়েছে। ২৯৪টি আসনের মধ্যে ২৯৩টিতে ভোটগণনা শেষ হয়েছে, যেখানে ২০৭টি আসনে বিশাল জয় হাসিল করে রাজ্যে নতুন সরকার গড়েছে বিজেপি। তবে বিজয় উল্লাসের মাঝেই এবার বিজেপির পাখির চোখ ‘ফলতা’। এই একটি আসন জিতে নিজেদের বিধায়ক সংখ্যা ২০৮-এ নিয়ে যেতে মরিয়া গেরুয়া শিবির।
ফলতা নিয়ে নবান্ন ও পার্টি অফিসে তৎপরতা
মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর থেকেই ব্যস্ততা তুঙ্গে শুভেন্দু অধিকারীর। মঙ্গলবার একদিকে যেমন অসমের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মার শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন, তেমনই বিকেলে কলকাতায় ফিরে লোক ভবনে প্রোটেম স্পিকার হিসেবে তাপস রায়ের শপথ অনুষ্ঠানেও উপস্থিত ছিলেন। সরকারি কাজের পাহাড় সামলেও এদিন সন্ধ্যায় সোজাসুজি পৌঁছে যান বিধাননগরের বিজেপি দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে ফলতা বিধানসভা উপনির্বাচন নিয়ে রুদ্ধশ্বাস বৈঠক করেন তিনি।
একুশে ভোট, চব্বিশে গণনা
ফলতা বিধানসভার ২৮৫টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে আগামী ২১ মে। আর এই হাইভোল্টেজ লড়াইয়ের ফল জানা যাবে ২৪ মে। মঙ্গলবারের বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি উপস্থিত ছিলেন জ্যোতির্ময় মাহাতো, সৌমিত্র খাঁ, শশী অগ্নিহোত্রী এবং রাজ্য সংগঠন সম্পাদক অমিতাভ চক্রবর্তী। এছাড়াও হাওড়া উত্তরের বিধায়ক উমেশ রাই ও ইংরেজ বাজারের বিধায়ক অম্লান ভাদুড়িও এই স্ট্র্যাটেজি বৈঠকে সামিল ছিলেন।
শুভেন্দুর কাঁধেই পাহাড়প্রমাণ দায়িত্ব
গত ৯ মে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন শুভেন্দু অধিকারী। নতুন সরকার গঠিত হলেও এখনও মন্ত্রিসভার পূর্ণাঙ্গ দফতর বণ্টন হয়নি। বর্তমানে মাত্র পাঁচজন মন্ত্রী দফতর পেয়েছেন, বাকি সব গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী। একদিকে সরকারি কাজ এবং অন্যদিকে ফলতা জয়ের ব্লু-প্রিন্ট তৈরি— শুভেন্দুর এই ‘ডাবল ডিউটি’ এখন রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
উল্লেখ্য, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের উপস্থিতিতেই সর্বসম্মতিক্রমে পরিষদীয় দলনেতা হিসেবে শুভেন্দুর নাম নির্বাচিত হয়েছিল। এবার নিজের রাজনৈতিক দক্ষতায় ফলতা ছিনিয়ে নিয়ে বিধায়ক সংখ্যা আরও বাড়ানোই তাঁর প্রধান চ্যালেঞ্জ।