বিকাশ ভবনের কড়া চিঠি! চাকরি হারিয়ে এবার কান্নায় অযোগ্যরা? বেতন ফেরাতে কোমর বেঁধে নামছে প্রশাসন

২০১৬ সালের স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় এবার বড়সড় পদক্ষেপ নিল রাজ্যের নতুন সরকার। আদালতের নির্দেশকে মান্যতা দিয়ে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত শিক্ষক ও অশিক্ষক কর্মীদের কাছ থেকে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে প্রশাসনিক তৎপরতা তুঙ্গে। এই বিষয়ে প্রতিটি জেলার জেলা শাসকের (DM) কাছে জরুরি রিপোর্ট তলব করেছে বিকাশ ভবন।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ পালনে মরিয়া প্রশাসন
ক্ষমতায় আসার পর থেকেই এসএসসি নিয়োগ দুর্নীতি মামলাকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বর্তমান সরকার। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে প্রশাসন যে কোনো রকম আপস করতে নারাজ, তা এই নির্দশিকা থেকেই স্পষ্ট। জেলা শাসকদের পাঠানো চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানতে চাওয়া হয়েছে, অযোগ্যদের থেকে বেতন ফেরতের বিষয়ে এ পর্যন্ত ঠিক কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং তার অগ্রগতি কতদূর।

নজরে ৫০০০-এর বেশি কর্মী
সিবিআই (CBI) তদন্ত এবং স্কুল সার্ভিস কমিশনের নিজস্ব যাচাই প্রক্রিয়ায় মোট ৫,৩১৮ জনকে ‘অযোগ্য’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১,৮০৬ জন শিক্ষক এবং ৩,৫১২ জন অশিক্ষক কর্মী রয়েছেন। কমিশন আগেই তাঁদের নাম নিজস্ব পোর্টালে প্রকাশ করেছিল।

আগের সরকারের বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ পালনে ঢিলেমির অভিযোগ থাকলেও, নতুন প্রশাসন সেই তকমা ঝেড়ে ফেলতে চাইছে। সূত্রের খবর, জেলা স্কুল পরিদর্শকরা (DI) ইতিমধ্যেই বিভিন্ন স্কুলের প্রধান শিক্ষকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছেন। অনেক জায়গায় সরকারি অফিসিয়াল গ্রুপ ও প্রশাসনিক চ্যানেলের মাধ্যমে দ্রুত তালিকা মিলিয়ে বেতন ফেরতের প্রক্রিয়া শুরু করতে বলা হয়েছে।

কেন এই বাড়তি তৎপরতা?
প্রশাসনিক মহলের মতে, ভবিষ্যতে আদালতের কড়া ভর্ৎসনা বা কোনো রকম আইনি জটিলতা এড়াতেই এই দ্রুত পদক্ষেপ। রাজ্য সরকার চাইছে স্বচ্ছতার ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং অযোগ্যদের সরিয়ে যোগ্য প্রার্থীদের ন্যায়বিচারের পথ প্রশস্ত করতে। জেলাগুলো থেকে রিপোর্ট আসার পরেই পরবর্তী ধাপের বড় কোনো ঘোষণা হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।