মমতার খাসতালুকেই এবার ‘শুভেন্দু রাজ’! নন্দীগ্রাম ছেড়ে ভবানীপুর আঁকড়ে বড় চমক মুখ্যমন্ত্রীর

একই সঙ্গে দুই কেন্দ্রে বিপুল জয়, আর এবার নিজের পছন্দের কেন্দ্র বেছে নিলেন রাজ্যের নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। নন্দীগ্রাম না ভবানীপুর— গত কয়েক দিন ধরে কোন আসনটি তিনি নিজের কাছে রাখবেন, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে যে জল্পনা চলছিল, তার অবসান হলো আজ। পূর্বতন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক বলে পরিচিত ‘ভবানীপুর’ কেন্দ্রের বিধায়ক হিসেবেই বুধবার শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার প্রোটেম স্পিকার তাপস রায় তাঁকে শপথবাক্য পাঠ করান।

নন্দীগ্রাম ছাড়লেন শুভেন্দু
নিয়ম অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী দুটি আসনে জয়লাভ করলে তাঁকে একটি আসন ছাড়তে হয়। ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরাজিত করে হইচই ফেলে দিয়েছিলেন শুভেন্দু। ২০২৬-এর নির্বাচনে তিনি আরও বড় চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। একদিকে নিজের দুর্গ নন্দীগ্রামকে রক্ষা করা, অন্যদিকে ভবানীপুরে গিয়ে মমতার মুখোমুখি হওয়া। দুই কেন্দ্রেই প্রতিপক্ষকে ধূলিসাৎ করে জয়ী হন তিনি। তবে শপথ গ্রহণের প্রাক্কালে কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের নির্দেশে তিনি ভবানীপুরের বিধায়ক হিসেবেই কাজ করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং নন্দীগ্রামের বিধায়ক পদ থেকে ইস্তফা দিলেন।

শপথ গ্রহণ ঘিরে সাজ সাজ রব
বুধবার এবং বৃহস্পতিবার মিলিয়ে বিধানসভায় মোট ২৯০ জন নবনির্বাচিত বিধায়ক শপথ গ্রহণ করবেন। শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণকে কেন্দ্র করে এদিন বিধানসভা চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা ও কর্মী-সমর্থকদের প্রবল উৎসাহ। শুভেন্দু ছাড়াও এদিন আম জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরও আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন। তিনিও রেজিনগর ও নওদা— দুই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। তাঁকেও একটি আসন ছেড়ে দিয়ে একটির বিধায়ক হিসেবে শপথ নিতে হচ্ছে।

ভবানীপুরে কেন মন দিলেন শুভেন্দু?
রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন এবং খোদ কলকাতার প্রাণকেন্দ্র ভবানীপুর। এই আসনটি নিজের দখলে রেখে শুভেন্দু আসলে এই বার্তাই দিতে চাইলেন যে, পূর্বতন সরকারের দুর্গের দখল এখন পুরোপুরি তাঁর হাতে। নন্দীগ্রামে বিজেপি-র সাংগঠনিক শক্তি প্রশ্নাতীত হলেও, ভবানীপুরের মতো হাই-প্রোফাইল কেন্দ্র হাতে রাখা তাঁর ভবিষ্যৎ রাজনীতির জন্য অত্যন্ত কৌশলগত পদক্ষেপ।