টেট পাশ না করলেই কি যাবে চাকরি? সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের মাঝেই শুরু CTET আবেদন

শিক্ষক হতে ইচ্ছুক চাকরিপ্রার্থীদের জন্য একদিকে খুশির খবর, অন্যদিকে বড়সড় উদ্বেগের কথা শোনাল সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (CBSE)। ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের সেন্ট্রাল টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট বা CTET-এর আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে বোর্ড। আজ, ১১ই মে থেকে অনলাইনে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হলেও এবারের নিয়মে আনা হয়েছে এক বিশাল পরিবর্তন, যা চিন্তা বাড়িয়েছে সাধারণ প্রার্থীদের।

আবেদনকারীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ: বন্ধ হলো শহর নির্বাচনের সুযোগ
এতদিন CTET পরীক্ষার্থীরা নিজেদের সুবিধামতো পরীক্ষার শহর বা সেন্টার বেছে নিতে পারতেন। কিন্তু ২০২৬ সালের পরীক্ষায় সেই সুযোগ আর থাকছে না। বোর্ড পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, এবার থেকে আবেদনপত্রে পরীক্ষা কেন্দ্র বেছে নেওয়ার কোনও অপশন থাকবে না। সিবিএসই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বা ‘র‍্যান্ডম’ পদ্ধতিতে প্রার্থীদের পরীক্ষা কেন্দ্র বরাদ্দ করবে। শহর পরিবর্তনের কোনও অনুরোধও ভবিষ্যতে শোনা হবে না। তাই ফর্ম পূরণের আগে নির্দেশিকাগুলি খুঁটিয়ে দেখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

গুরুত্বপূর্ণ সময়সীমা ও পরীক্ষার তারিখ
আগামী ৬ই সেপ্টেম্বর সারাদেশের ১৩২টি শহরে ২৭টি ভাষায় এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। আবেদন সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তারিখগুলো একনজরে দেখে নিন:

আবেদন শুরু: ১১ই মে, ২০২৬।

আবেদনের শেষ তারিখ: ১০ই জুন, ২০২৬ (রাত ১১:৫৯ মিনিট)।

আবেদন সংশোধন: ১৫ই জুন থেকে ১৮ই জুন পর্যন্ত।

অ্যাডমিট কার্ড: পরীক্ষার দুই দিন আগে হাতে পাওয়া যাবে।

ফলাফল: অক্টোবর ২০২৬-এর শেষ দিকে ফলাফল প্রকাশের সম্ভাবনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, বিশেষ প্রয়োজনে ৬ই সেপ্টেম্বরের পরীক্ষা ৫ই সেপ্টেম্বরও সরিয়ে নেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে বোর্ড।

টেট পাশ এখন বাধ্যতামূলক: বিপাকে হাজার হাজার শিক্ষক
সুপ্রিম কোর্টের সাম্প্রতিক এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্তের পর দেশজুড়ে কর্মরত শিক্ষকদের জন্য টিচার এলিজিবিলিটি টেস্ট (TET) পাশ করা এখন আইনিভাবে বাধ্যতামূলক। উত্তরপ্রদেশ, রাজস্থান, ঝাড়খণ্ড ও মধ্যপ্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে বহু শিক্ষক এখনও টেট পাশ না করেই চাকরি করছেন। আদালতের কড়া নির্দেশ, আগামী দুই বছরের মধ্যে এই শিক্ষকদের যোগ্যতা প্রমাণ করতে হবে। অন্যথায় তাঁদের চাকরি থেকে ইস্তফা বা অবসর নিতে বাধ্য করা হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে এবারের CTET পরীক্ষা প্রত্যেকের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

যোগ্যতা ও পাশের নম্বর
যারা আবেদন করতে চাইছেন, তাদের ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিচের নিয়ম অনুযায়ী হতে হবে:

পেপার-১: দ্বাদশ শ্রেণিতে অন্তত ৫০% নম্বরসহ ডি.এল.এড (D.El.Ed) বা সমমানের কোর্স।

পেপার-২: স্নাতক ডিগ্রির সাথে বি.এড (B.Ed) অথবা প্রাথমিক শিক্ষায় ডিপ্লোমা।

পাস মার্কস: সাধারণ বিভাগের (General) প্রার্থীদের ১৫০ নম্বরের মধ্যে অন্তত ৯০ পেতে হবে। সংরক্ষিত শ্রেণির (SC/ST) প্রার্থীদের জন্য পাশের নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ৮২।

শিক্ষকতায় উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন দেখা প্রার্থীদের জন্য এই পরীক্ষাটি এখন অগ্নিপরীক্ষার সমান। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে অফিসিয়াল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দ্রুত আবেদন সেরে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।