বাবা হতে চান ‘বরের সাজে’, ছেলে দিলেন বাধা! লুধিয়ানায় রাস্তার মাঝেই ছেলেকে ঝাঁঝরা করে আত্মঘাতী প্রাক্তন সেনা

মাঝরাতে হঠাতই গুলির শব্দে কেঁপে উঠল পাঞ্জাবের লুধিয়ানার নিউ আগর নগর এলাকা। রাস্তার ওপর যন্ত্রণায় ছটফট করছেন এক যুবক, আর তাঁর পেছনে বন্দুক হাতে ধাওয়া করছেন এক বৃদ্ধ। লুধিয়ানার এই মর্মান্তিক পারিবারিক বিবাদ কেবল রক্তক্ষয়ী রূপই নিল না, কেড়ে নিল দুটি প্রাণ। দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে বিবাদের জেরে নিজের একমাত্র ছেলেকে গুলি করে খুন করার পর বিষপানে আত্মহত্যা করলেন এক অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য।

বিবাদের মূলে ‘দ্বিতীয় জীবন’
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রাক্তন সেনা কর্মকর্তা সুরিন্দর সিংয়ের স্ত্রী মারা গিয়েছেন প্রায় পাঁচ বছর আগে। তিন সন্তানের মধ্যে দুই মেয়ে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী। লুধিয়ানার বাড়িতে ছেলে গুরশরণ সিংয়ের সঙ্গেই থাকতেন সুরিন্দর। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে সুরিন্দরের নতুন প্রেম নিয়ে। এক নারীর সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ার পর ওই বৃদ্ধ তাঁকে বিয়ে করার সিদ্ধান্ত নেন। বাবার এই বয়সে বিয়ে করার প্রবল বিরোধিতা করেন ছেলে গুরশরণ। এই নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই বাবা-ছেলের মধ্যে অশান্তি চলছিল।

রাস্তায় তাড়া করে খুন
রবিবার গভীর রাতে সেই বিবাদ চরমে পৌঁছায়। বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারিয়ে নিজের লাইসেন্স করা পিস্তল বের করেন সুরিন্দর। প্রথম গুলিটি গুরশরণের হাতে লাগলে তিনি প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে রাস্তার দিকে দৌড়াতে শুরু করেন। অভিযোগ, উন্মত্ত সুরিন্দর পিস্তল হাতে ছেলের পিছু ধাওয়া করেন এবং রাস্তার মাঝেই তাঁকে লক্ষ্য করে পরপর বেশ কয়েক রাউন্ড গুলি চালান। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় গুরশরণের।

ঘাতক বাবার করুণ পরিণতি
ছেলের নিথর দেহ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে বাড়িতে ফিরে আসেন সুরিন্দর। তীব্র অনুশোচনা নাকি ধরা পড়ার ভয়—তা স্পষ্ট নয়, তবে ঘরে ঢুকেই বিষাক্ত কোনো পদার্থ পান করেন তিনি। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত পৌঁছায় এবং দুজনকে হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকরা গুরশরণকে মৃত ঘোষণা করেন এবং কিছুক্ষণ পরেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় সুরিন্দর সিংয়ের মৃত্যু হয়।

তদন্তে পুলিশ
লুধিয়ানা পুলিশ জানিয়েছে, মৃতদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। একটি সাজানো গোছানো পরিবার কীভাবে দ্বিতীয় বিয়ের জেদ আর বিরোধিতার জেরে এক লহমায় ধ্বংস হয়ে গেল, তা নিয়ে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিদেশে থাকা দুই মেয়েকে খবর দেওয়া হয়েছে। পুলিশ পুরো ঘটনাটির তদন্ত শুরু করেছে।