পকেটে আসবে বাড়তি টাকা নাকি ভরতে হবে নয়া ফর্ম? সরকারি প্রকল্প নিয়ে বড় আপডেট দিলেন মুখ্যমন্ত্রী

দীর্ঘ দেড় দশকের মমতা-শাসনের অবসান ঘটে বাংলায় এখন নতুন জমানা। আর সরকার বদলের পর থেকেই কোটি কোটি উপভোক্তার মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল— লক্ষ্মীর ভাণ্ডার, কন্যাশ্রী বা যুবসাথীর মতো জনপ্রিয় প্রকল্পগুলো কি তবে বন্ধ হয়ে যাবে? সোমবার নবান্নে প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর সেই দুশ্চিন্তার মেঘ সরিয়ে দিলেন নবনির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “জনকল্যাণে চালু থাকা কোনো সরকারি সুবিধাই বন্ধ হবে না।”

পূর্বতন জমানার প্রকল্প নিয়ে সরকারের অবস্থান
সোমবার নবান্নে নবনির্বাচিত পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠক সারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি অভয় দিয়ে জানান যে, তৃণমূল জমানার জনপ্রিয় সামাজিক প্রকল্পগুলো সচল থাকছে। তবে এই প্রকল্পগুলোর পরিচালনায় আমূল সংস্কার এবং স্বচ্ছতা আনতে চলেছে নতুন বিজেপি সরকার।

স্বচ্ছতায় জোর ও কড়া নজরদারি
মুখ্যমন্ত্রী এদিন স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, সরকারি প্রকল্পের টাকা যাতে সঠিক মানুষের কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে ডাটাবেস খতিয়ে দেখা হবে। তিনি সাফ জানান, “কোনো মৃত ব্যক্তি বা কোনো ‘অভারতীয়’ যাতে এই সামাজিক প্রকল্পের সুবিধা না পায়, সরকার তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করবে।” অর্থাৎ, তালিকায় থাকা ভুয়া নাম বাদ দিতে বড়সড় স্ক্রিনিং বা যাচাইকরণ প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের টাকা নিয়ে কী আপডেট?
তৃণমূল জমানায় ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’ প্রকল্পে সাধারণ মহিলারা ১৫০০ টাকা এবং সংরক্ষিত শ্রেণির মহিলারা ১৭০০ টাকা করে পাচ্ছিলেন। সরকার বদলের পর চলতি মাসের ভাতা পেতে কিছুটা দেরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। তবে মুখ্যমন্ত্রী আশ্বস্ত করেছেন যে, টাকা সবাই পাবেন। এখন প্রশ্ন উঠছে, সরকার কি আগের ডাটাবেস ব্যবহার করেই সরাসরি টাকা পাঠাবে, নাকি নতুন করে ফর্ম ফিলাপ করতে হবে? এই বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো নির্দেশিকা না মিললেও মনে করা হচ্ছে, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতেই পোর্টাল বা তথ্যে কিছুটা রদবদল করা হতে পারে।

নতুন সরকারের লক্ষ্য: পেপারলেস ও দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন
শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, প্রশাসনিক প্রতিটি স্তরে এখন থেকে ‘পেপারলেস’ পদ্ধতিতে কাজ হবে। সরকারি টাকা সরাসরি উপভোক্তার অ্যাকাউন্টে (DBT) পাঠানোর ক্ষেত্রেও আরও স্বচ্ছতা আনা হবে। নতুন সরকারের এই সিদ্ধান্তে এটা পরিষ্কার যে, জনমোহিনী প্রকল্পগুলো বন্ধ করা নয়, বরং সেগুলোকে আরও সংগঠিত ও দুর্নীতিমুক্তভাবে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই লক্ষ্য শুভেন্দু সরকারের।