রাজ্য সরকারি কর্মীদের জন্য বিরাট ধামাকা! ডিএ ও পে-কমিশন নিয়ে নবান্ন থেকে বড় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

বাংলার রাজনৈতিক মানচিত্র বদলাতেই কি এবার ভাগ্য খুলতে চলেছে লক্ষ লক্ষ সরকারি কর্মচারীদের? সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নিজের প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠক সেরেই সেই ইঙ্গিত দিলেন শুভেন্দু অধিকারী। বকেয়া ডিএ (DA) থেকে শুরু করে সপ্তম বেতন কমিশন— যে ইস্যুগুলোকে হাতিয়ার করে ভোট বৈতরণী পার করেছিল বিজেপি, ক্ষমতায় এসে প্রথম দিনেই সেই বঞ্চনা ঘোচানোর প্রতিশ্রুতি শোনা গেল মুখ্যমন্ত্রীর গলায়।

পরের সোমবারই কি মিলবে বড় সুখবর?
এদিন পাঁচ মন্ত্রীকে নিয়ে করা প্রথম ক্যাবিনেট বৈঠকের পর শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, “নারী নির্যাতন, বকেয়া ডিএ এবং বেতন কমিশন নিয়ে আমরা আগামী সোমবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা করব।” অর্থাৎ, ডিএ-র জন্য হাপিত্যেশ করে বসে থাকা রাজ্য সরকারি কর্মীদের অপেক্ষার অবসান ঘটতে পারে আগামী সপ্তাহেই। এই প্রসঙ্গে আগের সরকারকে খোঁচা দিয়ে তিনি বলেন, “আমরা আগের মতো ‘বাজেট হয়ে যাওয়ার পর চন্দ্রিমা বলে দাও’— এভাবে চলব না। এই সরকার নিয়ম মেনে চলবে।”

অমিত শাহের ‘৪৫ দিনের গ্যারান্টি’ কি কার্যকর হচ্ছে?
ভোটের প্রচারে অমিত শাহ ঘোষণা করেছিলেন, বিজেপি সরকার গড়লে ৪৫ দিনের মধ্যেই বাংলায় সপ্তম বেতন কমিশন (7th Pay Commission) চালু হবে। প্রধানমন্ত্রী মোদীও দিয়েছিলেন তাঁর ‘গ্যারান্টি’। সেই প্রতিশ্রুতি পালনের লক্ষ্যেই যে নতুন সরকার এগোচ্ছে, তা প্রথম দিনেই স্পষ্ট করে দিলেন শুভেন্দু।

নবান্নে নেওয়া ৬টি বড় সিদ্ধান্ত:

চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাম্পার উপহার: নিয়োগ দুর্নীতির জেরে যাঁরা দীর্ঘদিন বঞ্চিত ছিলেন, তাঁদের কথা ভেবে সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়সসীমা একধাক্কায় ৫ বছর বাড়িয়ে দিল নতুন ক্যাবিনেট।

আয়ুষ্মান ভারত ও কেন্দ্রীয় প্রকল্প: আজ থেকেই রাজ্যে চালু হলো কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বীমা প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’। এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী জন আরোগ্য যোজনার মতো একগুচ্ছ কেন্দ্রীয় প্রকল্প এখন থেকে সরাসরি পাবেন বাংলার মানুষ।

BSF-কে জমি হস্তান্তর: সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং অনুপ্রবেশ রুখতে বিএসএফ-এর হাতে ঝুলে থাকা জমি দ্রুত হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS): আজ থেকেই রাজ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হলো নতুন ফৌজদারি আইন কাঠামো বা ভারতীয় ন্যায় সংহিতা।

অফিসারদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিং: এতদিন রাজ্যের IAS ও IPS আধিকারিকদের কেন্দ্রীয় ট্রেনিংয়ে যাওয়ার ওপর যে অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা ছিল, তা তুলে নিল শুভেন্দু সরকার।

জনগণনা শুরু: দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আজ থেকেই রাজ্যে শুরু হচ্ছে জনগণনার প্রক্রিয়া।

বন্ধ হবে না আগের কোনো প্রকল্প
সাধারণ মানুষের আশঙ্কার অবসান ঘটিয়ে সরকার স্পষ্ট করেছে যে, আগের সরকারের চালু করা কোনো জনকল্যাণমূলক প্রকল্পই বন্ধ করা হবে না। অর্থাৎ, বর্তমানে চালু থাকা সামাজিক সুবিধাগুলো বহাল থাকবে, তার সঙ্গে যুক্ত হবে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের বাড়তি সুবিধা।

প্রথম দিনেই শুভেন্দু অধিকারীর এই ‘অ্যাকশন প্ল্যান’ বুঝিয়ে দিল— পরিবর্তনের বাংলা এবার উন্নয়নের ‘ডাবল ইঞ্জিন’ দৌড়ের জন্য প্রস্তুত।