মহিলাদের জন্য বড় সুখবর! মাসে পাবেন ২৫০০ টাকা! আজই চালু হচ্ছে পোর্টাল, জানুন আবেদনের নিয়ম

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণের পথে আরও এক ধাপ এগোল দিল্লি সরকার। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আজ, সোমবারই চালু হতে চলেছে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সমৃদ্ধি যোজনা’র বিশেষ পোর্টাল। এই প্রকল্পের আওতায় যোগ্য মহিলারা প্রতি মাসে ২,৫০০ টাকা করে সরাসরি নিজেদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে পাবেন।

প্রতিশ্রুতি পূরণ ও প্রকল্পের সূচনা
২০২৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে মহিলাদের আর্থিক স্বনির্ভরতার লক্ষ্যে মাসে ২,৫০০ টাকা ভাতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল বিজেপি। ক্ষমতা দখলের এক বছর অতিক্রান্ত হলেও প্রকল্প শুরু না হওয়ায় বিরোধীদের কড়া সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল সরকারকে। অবশেষে সেই জট কাটতে চলেছে। সরকারি সূত্রে খবর, আজ পোর্টালটি উদ্বোধন হওয়ার পর থেকেই অনলাইনে রেজিস্ট্রেশন এবং আবেদন যাচাইকরণ (ভেরিফিকেশন) প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী ১ জুন থেকেই উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছানো শুরু হতে পারে।

নাম বদলের গুঞ্জন: ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’?
উদ্বোধনের ঠিক আগেই প্রকল্পের নাম নিয়ে নতুন তথ্য সামনে আসছে। প্রাথমিকভাবে একে ‘মুখ্যমন্ত্রী মহিলা সম্মান যোজনা’ বলা হলেও, পোর্টাল লঞ্চের ঠিক আগে নাম বদলে ‘দিল্লি লক্ষ্মী যোজনা’ রাখা হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে। তবে চূড়ান্ত নাম কী হবে, তা আজ বিকেলেই স্পষ্ট হয়ে যাবে।

কারা পাবেন এই আর্থিক সুবিধা?
গত বাজেটে মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা এই প্রকল্পের জন্য ৫,১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন। তবে দিল্লির সব মহিলা এই সুবিধা পাবেন না। সুবিধাভোগী হতে হলে মানতে হবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত:

বয়স ও আয়: আবেদনকারী মহিলার বয়স ১৮ বছরের বেশি হতে হবে এবং পরিবারের বার্ষিক আয় আড়াই লক্ষ টাকার কম হতে হবে।

এক পরিবার, এক সুবিধা: প্রতি পরিবার থেকে কেবলমাত্র একজন মহিলাই এই ভাতার জন্য আবেদন করতে পারবেন।

বর্জনীয় তালিকা: যদি পরিবারে কোনো সরকারি চাকরিজীবী থাকেন অথবা পরিবারে গাড়ি বা বাইক থাকে, তবে তারা এই সুবিধা পাবেন না। এ ছাড়া, অন্য কোনো সরকারি ভাতা বা পেনশন পান এমন মহিলারাও এই প্রকল্পের বাইরে থাকবেন।

আবেদনের জন্য প্রয়োজনীয় নথি
আবেদন প্রক্রিয়ার জন্য নির্দিষ্ট কিছু নথিপত্র প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো:
১. বৈধ আধার কার্ড (Aadhaar Card)
২. আয়ের শংসাপত্র (Income Certificate)
৩. ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের তথ্য

আজ পোর্টাল উদ্বোধনের পর যোগ্য মহিলারা নির্দিষ্ট ওয়েবসাইটের মাধ্যমে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করতে পারবেন। মহিলাদের অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতেই এই বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।