ফার্মেসি শিক্ষায় বড় ধামাকা! সিলেবাসে আসছে AI; এবার পাশ করলেই নিশ্চিত চাকরি?

ভারতে ফার্মেসি শিক্ষাকে বিশ্বমানের করে তুলতে এবং শিক্ষার্থীদের সরাসরি কর্মসংস্থানের উপযোগী করতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল ফার্মেসি কাউন্সিল অফ ইন্ডিয়া (PCI)। ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকেই কার্যকর হতে চলেছে সংশোধিত বি.ফার্ম (B.Pharm) পাঠ্যক্রম। নতুন এই সিলেবাসে প্রথাগত পুঁথিগত বিদ্যার চেয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) এবং হাতে-কলমে হাসপাতাল প্রশিক্ষণের ওপর।

ফার্মেসিতে এবার এআই-এর দাপট
পিসিআই-এর শিক্ষা নিয়ন্ত্রণ কমিটির চেয়ারম্যান দীপেন্দ্র সিং জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ের শিল্প ও হাসপাতালের চাহিদাকে প্রাধান্য দিয়েই এই নতুন কোর্স ডিজাইন করা হয়েছে। ওষুধের গুণমান নিয়ন্ত্রণ থেকে শুরু করে গবেষণার প্রতিটি স্তরে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ শেখানো হবে শিক্ষার্থীদের। এর ফলে ভারতীয় ফার্মাসিস্টরা আন্তর্জাতিক বাজারে আরও বেশি প্রতিযোগিতামূলক হয়ে উঠবেন।

শিক্ষা ও শিল্পের ব্যবধান ঘুচবে
এতদিন অভিযোগ ছিল যে, কলেজ থেকে পাশ করে বেরোনোর পর শিক্ষার্থীরা সরাসরি কাজের জগতের চ্যালেঞ্জ সামলাতে হিমশিম খায়। পিসিআই জানিয়েছে, নতুন পাঠ্যক্রমটি এমনভাবে তৈরি যাতে শিক্ষা ও শিল্পক্ষেত্রের (Industry) মধ্যকার দূরত্ব ঘুচে যায়। এতে এমন সব বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা শিক্ষার্থীদের নিয়োগকর্তাদের কাছে আরও আকর্ষণীয় করে তুলবে।

পছন্দমতো বিষয় বেছে নেওয়ার সুযোগ
নতুন সিলেবাসে শিক্ষার্থীদের জন্য থাকছে একাধিক ঐচ্ছিক (Elective) বিষয়। শিক্ষার্থীরা তাদের নিজস্ব আগ্রহ এবং ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার অনুযায়ী বিশেষায়িত বিষয় বেছে নিতে পারবে। এমনকি পিসিআই-এর অনুমোদন নিয়ে কলেজগুলো নিজস্ব কিছু বিশেষ কোর্সও অফার করতে পারবে।

বাধ্যতামূলক প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং
সংশোধিত পাঠ্যক্রমে তাত্ত্বিক ক্লাসের চেয়ে প্র্যাকটিক্যাল বা ব্যবহারিক প্রশিক্ষণে বেশি কড়াকড়ি করা হয়েছে। হাসপাতাল বা ওষুধ উৎপাদনকারী সংস্থায় হাতে-কলমে কাজ শেখা এখন থেকে বাধ্যতামূলক। এছাড়া রোগীর মানসিক অবস্থা ও পেশাদারিত্ব বুঝতে পাঠ্যক্রমে যুক্ত হয়েছে ‘ফার্মাসি সাইকোলজি’র মতো আধুনিক বিষয়।

জাতীয় শিক্ষা নীতি ২০২০-এর প্রভাব
জাতীয় শিক্ষা নীতি (NEP 2020)-এর লক্ষ্যপূরণে এই সিলেবাসে ‘স্কিল-বেসড’ বা দক্ষতা বৃদ্ধিকারী কোর্সের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর ফলে ফার্মেসি পাশ করা ছাত্রছাত্রীরা কেবল ওষুধ বিক্রেতা নয়, বরং দক্ষ স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন।

ভারতের স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পে এই পরিবর্তন এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।