অপারেশন সিঁদুর: সীমান্তের ওপারে আইএসআই-এর মাস্টারপ্ল্যান ফাঁস! জালে শয়ে শয়ে পাকিস্তানি গুপ্তচর

দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিয়ে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এল। ২০২৫ সালে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযান ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পর থেকে ভারতে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই (ISI)-এর তৎপরতা বহুগুণ বেড়ে গেছে। সাম্প্রতিক এক গোয়েন্দা রিপোর্টে জানা গেছে, দেশের ১৭টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল থেকে এখনও পর্যন্ত ৪৫৭ জন পাকিস্তানি গুপ্তচর ও তাদের সহযোগীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
পাঞ্জাব পুলিশের বড় সাফল্য
পাঞ্জাবের ডিজিপি গৌরব যাদব জানিয়েছেন, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলির যৌথ প্রচেষ্টায় এই বিশাল নেটওয়ার্কটি ধ্বংস করা সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সাল থেকে ২০২৬ সালের মার্চ মাসের মধ্যে দফায় দফায় অভিযান চালিয়ে এই বিপুল সংখ্যক সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়। মূলত পাঞ্জাবকে কেন্দ্র করেই আইএসআই তাদের এই নাশকতার জাল বুনেছিল বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
হানি-ট্র্যাপ ও অর্থের প্রলোভন
তদন্তে উঠে এসেছে এক ভয়ঙ্কর কৌশল। জানা গেছে, পাকিস্তানি গোয়েন্দা কর্মকর্তারা (PIO) মূলত সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে ভারতীয়দের টার্গেট করত। কোথাও প্রেমের ফাঁদ (হানি-ট্র্যাপ), আবার কোথাও মোটা অঙ্কের অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে দেশের বিরুদ্ধে কাজে লাগানো হতো। এই চরবৃত্তির টাকা লেনদেন হতো গোপন ‘হাওয়ালা’ চ্যানেলের মাধ্যমে এবং যোগাযোগ চলত এনক্রিপ্টেড মোবাইল অ্যাপে।
সেনা ছাউনিতে নজরদারি: সোলার ক্যামেরার ছক
সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আইএসআই-এর নির্দেশে এই গুপ্তচররা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং পুলিশ ভবনের কাছে সৌরশক্তিচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা বসানোর চেষ্টা করেছিল। উদ্দেশ্য ছিল, দূর থেকে ভারতীয় সেনাদের গতিবিধি এবং সীমান্ত মোতায়েন সংক্রান্ত সংবেদনশীল তথ্য সীমান্তের ওপারে পাচার করা। এমনকি সিম কার্ড সম্বলিত এই ক্যামেরাগুলির লাইভ ফুটেজ পাঠানোর প্রস্তুতিও সারা ছিল।
তৎপর গোয়েন্দারা
তবে বড় কোনো তথ্য ফাঁস হওয়ার আগেই পাঞ্জাব পুলিশের কাউন্টার ইন্টেলিজেন্স উইং এই ষড়যন্ত্রের হদিস পায়। ২০২৬ সালের মার্চ ও এপ্রিল মাসে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ক্যামেরাগুলো চালু হওয়ার আগেই অপরাধীদের হাতেনাতে পাকড়াও করা হয়। এই ঘটনার পর দেশজুড়ে সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং প্রতিটি রাজ্যকে বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলি।
দেশের নিরাপত্তা নিয়ে এই টানটান উত্তেজনার মধ্যে ‘অপারেশন সিঁদুর’ যে এক বিশাল সাফল্য, তা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় অপরিচিতদের সঙ্গে বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকে আরও সতর্ক হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।