ক্রিকেটারদের ঘরে কারা ঢুকছে? আইপিএল হোটেলের ‘সিক্রেট’ ফাঁস হতেই নড়েচড়ে বসল বিসিসিআই!

আইপিএল-এর গ্ল্যামারের আড়ালে কি দানা বাঁধছে বড় কোনও কেলেঙ্কারি? চলতি টুর্নামেন্টে ক্রিকেটারদের নিরাপত্তা এবং শৃঙ্খলা নিয়ে একগুচ্ছ বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসায় নজিরবিহীন সতর্কতা জারি করল বিসিসিআই (BCCI)। ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর জন্য বিসিসিআই-এর সাফ বার্তা— হোটেলের অন্দরে ক্রিকেটারদের ঘরে কারা ঢুকছে, তার ওপর কড়া নজরদারি চালাতে হবে।

হানি-ট্র্যাপ ও বুকিদের আতঙ্ক:
বিসিসিআই-এর কাছে খবর পৌঁছেছে যে, আইপিএল-এর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত নন এমন মহিলারা অবাধে ক্রিকেটারদের হোটেল রুমে যাতায়াত করছেন। শুধু মহিলারাই নন, বহু অজ্ঞাতপরিচয় পুরুষের গতিবিধিও ধরা পড়েছে হোটেলের করিডোরে। এতে একদিকে যেমন ‘হানি-ট্র্যাপ’-এর আশঙ্কা থাকছে, অন্যদিকে সক্রিয় হতে পারে আন্তর্জাতিক বেটিং চক্র বা বুকিরাও। ২০১৩ সালের ম্যাচ গড়াপেটার সেই কলঙ্কিত ইতিহাস যাতে ফিরে না আসে, তা নিশ্চিত করতেই এই কড়া পদক্ষেপ।

বিসিসিআই সচিবের কড়া হুঁশিয়ারি:
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়া সমস্ত ফ্র্যাঞ্চাইজিকে পাঠানো সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন, ‘চলতি আইপিএল চলাকালীন বেশ কিছু অনভিপ্রেত ঘটনা আমাদের নজরে এসেছে। আইপিএল-এর মতো পেশাদার মঞ্চে প্রত্যেকের কাছ থেকে শৃঙ্খলা এবং নিরাপত্তা প্রোটোকল মেনে চলা আশা করা হয়।’ স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, ক্রিকেটারদের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনও আপস করা হবে না।

বিশৃঙ্খলা ও বিতর্কে রাজস্থান-পাঞ্জাব:
মাঠের বাইরেও একাধিক ক্রিকেটার ও আধিকারিকের আচরণে ক্ষুব্ধ বোর্ড। সম্প্রতি রাজস্থান রয়্যালসের ডাগআউটে বসে ম্যানেজার রোমি ভিন্দেরকে মোবাইল ব্যবহার করতে দেখা গিয়েছে, যা নিয়মবিরুদ্ধ। আরও বড় বিতর্ক তৈরি হয়েছে রিয়ান পরাগকে নিয়ে; ড্রেসিংরুমে বসে ই-সিগারেট ধূমপান করার দায়ে তাঁকে মোটা অঙ্কের জরিমানা করা হয়েছে। বাদ যাননি যুজবেন্দ্র চাহালও, বিমানে বসে ই-সিগারেট খাওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় তাঁর আচরণ নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছে বিসিসিআই।

আইপিএল-এর পেশাদারিত্ব ধরে রাখতে এবার থেকে ক্রিকেটারদের হোটেল এবং মাঠের আচরণে নজরদারি আরও কয়েক গুণ বাড়ানো হচ্ছে। নিয়ম ভাঙলে নির্বাসনের মতো কঠোর শাস্তির ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছে বোর্ড।