ঠাকুরমার বিয়ে নিয়ে তোলপাড় বলিউড! কপিল-নীতুর রসায়নে ‘দাদি কি শাদি’ কি পারবে মন জয় করতে? জানুন আসল সত্যি

বর্তমান বলিউডে যখন চারদিকে শুধু রক্তক্ষয়ী অ্যাকশন, নির্মম খলনায়ক আর ডার্ক থ্রিলারের দাপট, সেখানে একটি নিখাদ পারিবারিক বিনোদন খুঁজে পাওয়া মরুভূমিতে জল খোঁজার মতোই কঠিন। ঠিক এই অভাবটি পূরণ করতেই পরিচালক আশীষ আর মোহন নিয়ে এসেছেন তাঁর নতুন ছবি ‘দাদি কি শাদি’। প্রবীণ অভিনেত্রী নীতু কাপুর, কমেডি কিং কপিল শর্মা এবং এই ছবির মাধ্যমেই বলিউডে অভিষেক করা ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনিকে নিয়ে তৈরি এই ছবি কি দর্শকদের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারল? জেনে নিন বিস্তারিত।
গল্পের মোড়: যখন ঠাকুমা নিজেই কনে!
ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে টনিকে (কপিল শর্মা) কেন্দ্র করে। টনির বিয়ের জন্য তার পরিবার হন্যে হয়ে পাত্রী খুঁজছে। অনেক কাঠখড় পোড়ানোর পর সুন্দরী কণিকা আহুজার (সাদিয়া খাতিব) সঙ্গে তার বিয়ে ঠিক হয়। কিন্তু আসল টুইস্ট আসে তখনই, যখন টনির ঠাকুমা (নীতু কাপুর) ঘোষণা করেন যে— তিনি নিজেও আবার বিয়ে করতে চান!
এই এক ঘোষণায় পুরো পরিবারে ভূমিকম্প শুরু হয়। পুরনো চাপা বিবাদ, ভুল বোঝাবুঝি আর আবেগের জোয়ারে ভেসে যায় টনির সাজানো সংসার। এর মধ্যেই কপিল ও সাদিয়া জানতে পারে যে, ঠাকুমা যাকে বিয়ে করতে চলেছেন, সেই বৃদ্ধ আসলে একজন বড় মাপের প্রতারক। টনি কি পারবে তার ঠাকুমাকে এই বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে? নাকি পরিবারের সমীকরণ বদলে যাবে চিরতরে? এই উত্তর মিলবে বড় পর্দায়।
নির্মাণ ও পরিচালনা
‘দাদি কি শাদি’ এমন এক ছবি যা আপনি পরিবারের ছোট-বড় সবাইকে নিয়ে অনায়াসে দেখতে পারেন। ছবির মূল শক্তি এর সরলতা। তবে গল্পের গরু অনেকটা চেনা পথেই হেঁটেছে। ট্রেলার দেখলে আপনি সিনেমার অর্ধেকটা আগেই আঁচ করতে পারবেন। আশীষ আর মোহনের পরিচালনা নিরাপদ ছক মেনে চললেও কমেডির ধার কিছুটা কম। বেশ কিছু কৌতুক দর্শককে হাসাতে তেমন সফল হয়নি। তবে আবেগঘন দৃশ্যগুলো বেশ যত্ন নিয়ে বানানো হয়েছে।
অভিনয়: কার দাপট বেশি?
নীতু কাপুর: এই ছবির আসল সুপারস্টার এবং মেরুদণ্ড হলেন নীতু কাপুর। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন যে বয়স কেবলই একটা সংখ্যা। পর্দায় তাঁর চঞ্চলতা, সারল্য এবং গভীর অভিনয় দর্শকদের মোহাবিষ্ট করে রাখে।
কপিল শর্মা: নিজের চেনা টিভি অবতার থেকে বেরিয়ে একটু সিরিয়াস হওয়ার চেষ্টা করেছেন কপিল। কিন্তু অভিজ্ঞ অভিনেতার সেই তীক্ষ্ণতা তাঁর মধ্যে এখনও কিছুটা অনুপস্থিত। বিশেষ করে আবেগপ্রবণ দৃশ্যে তাঁকে কিছুটা অপটু লেগেছে।
ঋদ্ধিমা কাপুর সাহনি: ৪৫ বছর বয়সে এসেও ঋদ্ধিমার আত্মবিশ্বাসী অভিষেক সত্যিই প্রশংসনীয়। নীতু কাপুরের সঙ্গে তাঁর অন-স্ক্রিন রসায়ন ছিল অত্যন্ত স্বাভাবিক এবং সাবলীল।
সাদিয়া খাতিব: সাদিয়া নিজের সেরাটা দিলেও কপিল শর্মার সঙ্গে তাঁর প্রায় ২০ বছরের বয়সের পার্থক্য পর্দায় প্রকট হয়ে ধরা দিয়েছে। তাদের জুটি যতটা জমার কথা ছিল, ততটা জমেনি।
কেন দেখবেন আর কেন দেখবেন না?
দেখার কারণ: যদি আপনি নীতু কাপুরের জাদুকরী অভিনয় দেখতে চান এবং ‘অ্যানিমেল’ বা ‘জওয়ান’-এর মতো ভারী অ্যাকশন থেকে বিরতি নিয়ে হালকা মেজাজের কিছু খুঁজছেন, তবে এই ছবি আপনার জন্য। এছাড়া ঋদ্ধিমার অভিনয়ও আপনাকে নিরাশ করবে না।
না দেখার কারণ: ছবির সবচেয়ে বড় দুর্বলতা এর অনুমেয় গল্প। নতুনত্বের অভাব এবং কপিল শর্মার দুর্বল কমেডি আপনাকে কিছুটা হতাশ করতে পারে। মনে হতে পারে, পুরো ছবির বোঝা একা নীতু কাপুরের কাঁধেই চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শেষ কথা:
‘দাদি কি শাদি’ কোনো বৈপ্লবিক সিনেমা নয়, তবে এটি মনের আরাম দেওয়ার মতো একটি ছবি। নীতু কাপুরের উজ্জ্বল উপস্থিতিই এই সিনেমাটিকে অন্তত একবার দেখার যোগ্য করে তুলেছে।