তৃণমূলে মহাপ্রলয়! ৫ হেভিওয়েট মুখপাত্রকে শোকজ, ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে কি কড়া বার্তা দিলেন অভিষেক?

নির্বাচনী বিপর্যয়ের ধাক্কা কাটতে না কাটতেই তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে এবার শৃঙ্খলা রক্ষার কড়া দাওয়াই। দলের অভ্যন্তরীণ অবস্থান পর্যালোচনার মাঝেই প্রকাশ্যে এল বড়সড় ফাটল। দলবিরোধী মন্তব্যের অভিযোগে এবার পাঁচজন হাই-প্রোফাইল মুখপাত্রকে শোকজ় নোটিস পাঠাল তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শাসকদলের অন্দরে শৃঙ্খলা এবং ঐক্য নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক মহলে জল্পনা শুরু হয়েছে।

কাদের উপর পড়ল কোপ?
দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শোকজ় করা পাঁচ মুখপাত্রের তালিকায় রয়েছেন— ঋজু দত্ত, কৃষ্ণেন্দু চৌধুরী, কোহিনুর মজুমদার, পাপিয়া ঘোষ এবং কার্তিক ঘোষ। অভিযোগ, নির্বাচনী ফলাফল এবং দলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে তাঁরা সংবাদমাধ্যম বা সোশ্যাল মিডিয়ায় এমন কিছু মন্তব্য করেছেন, যা দলের নীতি ও নির্দেশিকার পরিপন্থী। তাঁদের এই ‘অসংযত’ আচরণকে শৃঙ্খলাভঙ্গ হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব।

২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম:
তৃণমূলের তরফে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, এই পাঁচ নেতাকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে লিখিত জবাব দিতে হবে। কেন তাঁরা দলীয় লাইনের বাইরে গিয়ে মন্তব্য করেছেন, তার সন্তোষজনক ব্যাখ্যা না মিললে দল আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে—এমনই ইঙ্গিত মিলেছে। দলীয় সূত্রের দাবি, সংগঠনের রাশ শক্ত হাতে ধরতেই এই কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

ভিতরের অস্থিরতা না কি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ?
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, নির্বাচনী ফলাফল আশানুরূপ না হওয়ায় দলের বিভিন্ন স্তরের নেতাদের মধ্যে একটা চাপা অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। অনেক নেতা বা মুখপাত্র নিজেদের মতো করে হারের ময়নাতদন্ত করতে গিয়ে অজান্তেই দলের অস্বস্তি বাড়াচ্ছেন। মুখপাত্ররা যেহেতু দলের ‘মুখ’, তাই তাঁদের কোনও আলটপকা মন্তব্য রাজনৈতিকভাবে বড় ক্ষতি করতে পারে। সেই আশঙ্কা থেকেই শীর্ষ নেতৃত্ব এই ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ চালিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বিরোধীদের কটাক্ষ:
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই সরব বিরোধী শিবির। বিজেপি ও সিপিআইএমের দাবি, লোকসভা ভোটের ফলের পর তৃণমূলের তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে এবং অভ্যন্তরীণ কোন্দল চরম সীমায় পৌঁছেছে। অন্যদিকে, তৃণমূল সমর্থকদের দাবি, দল একটি শৃঙ্খলাপরায়ণ সংগঠন এবং যে কেউ নিয়মের বাইরে গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াটাই স্বাভাবিক।

তৃণমূলের এই কঠোর অবস্থান শেষ পর্যন্ত দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনে না কি ক্ষোভের আগুন আরও উসকে দেয়, সেটাই এখন দেখার। জল্পনা তুঙ্গে—এই পাঁচ নেতার উত্তর সন্তোষজনক না হলে পরবর্তী তালিকায় আর কার কার নাম যুক্ত হতে চলেছে?