‘প্রাক্তন’ মানতে নারাজ মমতা! হারলেও সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও ‘মুখ্যমন্ত্রী’, নজিরবিহীন জেদ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা

বাংলার রাজনীতিতে কি এক নতুন সাংবিধানিক সঙ্কটের ইঙ্গিত? নাকি স্রেফ হার না মানার এক জেদ? ১৫ বছরের নবান্ন-শাসন শেষে ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে পরাজয়ের পর ‘প্রাক্তন’ তকমা নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি। তবে সেই তকমা কি আদৌ মানছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)? তাঁর ডিজিটাল পদচিহ্ন কিন্তু অন্য কথা বলছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় এখনও ‘মুখ্যমন্ত্রী’
বৃহস্পতিবারই রাজ্যপাল আর.এন. রবি বর্তমান মন্ত্রিসভা ভেঙে দিয়েছেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে রাজ্যের পুরনো মন্ত্রীরা আর স্বপদে নেই। অর্থাৎ, খাতায় কলমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর বাংলার মুখ্যমন্ত্রী নন। কিন্তু শুক্রবার সকাল পর্যন্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম এবং এক্স (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে তাঁর পরিচয় হিসেবে জ্বলজ্বল করছে ‘Chief Minister, West Bengal’। নিজের নামের পাশ থেকে ‘প্রাক্তন’ শব্দটি সরাতে নারাজ তিনি, যা নিয়ে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা।

ইস্তফা দেননি মমতা!
সাধারণত ভোটের ফল প্রকাশের পর পরাজয় নিশ্চিত হলে মুখ্যমন্ত্রী রাজভবনে গিয়ে রাজ্যপালের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়ে আসেন। কিন্তু মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও তা করেননি। তাঁর সাফ কথা, “আমি হারিনি, আমাকে হারানো হয়েছে।” এই যুক্তিতেই তিনি ইস্তফা দিতে অস্বীকার করেছেন। যদিও পরাজয়ের পর মুখ্যমন্ত্রীর ইস্তফা দেওয়া একটি প্রথাগত বিষয়, তবে এর পিছনে কোনও কড়া সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা নেই। মন্ত্রিসভা ভেঙে দেওয়ার মাধ্যমে রাজ্যপাল ইতিমধ্যেই আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছেন।

৯ মে ব্রিগেডে নতুন সূর্যোদয়?
আগামীকাল, ৯ মে ব্রিগেডে নতুন মুখ্যমন্ত্রীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হতে চলেছে। তার মাত্র ২৪ ঘণ্টা আগে রাজ্যে কার্যত কোনও ‘অফিসিয়াল’ মুখ্যমন্ত্রী নেই। অথচ সোশ্যাল মিডিয়ায় এই পরিচয় ধরে রাখা কি কেবলই টেকনিক্যাল ভুল, নাকি রাজনৈতিক বার্তা? ১৯৮৪ থেকে সংসদীয় রাজনীতিতে দাপিয়ে বেড়ানো মমতা ২০২১ সালেও নন্দীগ্রামে হেরে গিয়ে উপ-নির্বাচনে জিতে মসনদে ফিরেছিলেন। কিন্তু ২০২৬-এর পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের পরিচয়ে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দটা রেখে দিয়ে মমতা আসলে তাঁর সমর্থকদের এই বার্তাই দিতে চাইছেন যে, জনমানসে তিনি আজও নেত্রী। তবে ডিজিটাল দুনিয়ায় এই পরিচয় কতক্ষণ স্থায়ী হয় এবং শপথের পর তা পরিবর্তন করা হয় কি না, এখন সেদিকেই নজর গোটা বাংলার।