আইপিও বাজারে মেগা ধামাকা! ১,২৫০ কোটির অফার নিয়ে আসছে InCred, বিনিয়োগকারীদের কপাল কি এবার খুলবে?

ভারতের দ্রুত বর্ধনশীল ফিনটেক এবং এনবিএফসি (NBFC) খাতের জন্য বড় খবর। আইপিও (IPO) বাজারের পারদ চড়াতে এবার কোমর বেঁধে নামছে দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ঋণদানকারী সংস্থা ‘ইনক্রেড’ (InCred)। সম্প্রতি কোম্পানিটি তাদের প্রস্তাবিত আইপিও-র জন্য বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা সেবি-র (SEBI) কাছে হালনাগাদ খসড়া কাগজপত্র জমা দিয়েছে।

বিনিয়োগের বড় সুযোগ
খসড়া অনুযায়ী, ইনক্রেড ১,২৫০ কোটি টাকার নতুন ইক্যুইটি শেয়ার ইস্যু করতে চলেছে। তবে শুধু নতুন শেয়ারই নয়, এই আইপিও-র একটি বড় অংশ থাকছে অফার-ফর-সেল (OFS)। এর মাধ্যমে প্রায় ৯৯ মিলিয়ন ইক্যুইটি শেয়ার বিক্রি করবেন বর্তমান বিনিয়োগকারীরা। উল্লেখযোগ্যভাবে, কেকেআর ইন্ডিয়া ফিনান্সিয়াল ইনভেস্টমেন্টস (KKR) এবং ভিওশেন ইনভেস্টমেন্টসের মতো হেভিওয়েট সংস্থাগুলি এই প্রক্রিয়ায় তাদের শেয়ারের একাংশ বিক্রি করছে।

তহবিল ব্যবহারের পরিকল্পনা
সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আইপিও থেকে প্রাপ্ত তহবিলের সিংহভাগ ব্যয় করা হবে তাদের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ‘ইনক্রেড ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস’-এর মূলধন ভিত্তি শক্তিশালী করতে। এর ফলে কোম্পানিটি ভবিষ্যতে আরও বেশি করে ঋণ বিতরণ করতে পারবে এবং তাদের ঋণদান ব্যবসা (Lending Business) আরও প্রসারিত হবে। মূলত টিয়ার-১ মূলধন উন্নত করাই এখন সংস্থার প্রধান লক্ষ্য।

কারা সামলাচ্ছেন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ?
ইনক্রেড-এর এই হাই-প্রোফাইল আইপিও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দেশের প্রথম সারির বেশ কিছু বিনিয়োগ ব্যাংককে। তালিকায় রয়েছে আইআইএফএল ক্যাপিটাল (IIFL), কোটাক মাহিন্দ্রা ক্যাপিটাল (Kotak), নোমুরা ফিনান্সিয়াল এবং ইউবিএস সিকিউরিটিজের (UBS) মতো বিশ্বখ্যাত নাম।

এক নজরে ইনক্রেড-এর ব্যবসা
২০১৭ সালে ভূপিন্দর সিং-এর হাত ধরে পথ চলা শুরু করা এই সংস্থাটি বর্তমানে মধ্যম-স্তরের এনবিএফসি হিসেবে রিজার্ভ ব্যাংকের (RBI) নজর কেড়েছে। কোম্পানিটির ব্যবসার মূল স্তম্ভ হলো ব্যক্তিগত ঋণ (Personal Loan), যা তাদের মোট সম্পদের (AUM) প্রায় ৫৫ শতাংশ। এর পাশাপাশি ছাত্র ঋণ (Education Loan) রয়েছে ২২ শতাংশেরও বেশি। এছাড়া ক্ষুদ্র ব্যবসা বা এমএসএমই (MSME) ঋণ এবং সম্পত্তি-বন্ধকী ঋণের ক্ষেত্রেও তারা বেশ সক্রিয়।

ডিসেম্বর ২০২৫-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ইনক্রেড-এর মোট ব্যবস্থাপিত সম্পদের পরিমাণ প্রায় ১৪,৪৪৮ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। প্রযুক্তি-নির্ভর এই ঋণদান মডেল এবং উন্নত ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিই এই আইপিও-কে ঘিরে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তুঙ্গে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।