শেয়ার বাজারে রকেট গতি! মাত্র ৪ দিনে ৩৩% রিটার্ন দিয়ে বিনিয়োগকারীদের পকেটে তুফান আনল এই স্টক

শেয়ার বাজারের বিনিয়োগকারীরা সবসময়ই এমন এক ‘মাল্টিব্যাগার’ স্টকের খোঁজে থাকেন, যা অল্প সময়ে তাঁদের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিনিয়োগকারীদের মুখে হাসি ফুটিয়ে ঠিক তেমনই ম্যাজিক দেখাচ্ছে ‘তেজাস নেটওয়ার্কস’ (Tejas Networks)। একটা সময় যে শেয়ার বিনিয়োগকারীদের হতাশ করে গত এক বছরে ২২ শতাংশ পর্যন্ত দাম হারিয়েছিল, সেই শেয়ারই এখন রকেটের গতিতে ছুটছে। গত মাত্র চারটি ট্রেডিং সেশনে এই স্টকের দাম বেড়েছে প্রায় ৩৩ শতাংশ।

মঙ্গলবার বাজারের চিত্র: ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ
মঙ্গলবার সকালে দালাল স্ট্রিট খোলার পর থেকেই তেজাস নেটওয়ার্কসের শেয়ারে বুল রান দেখা যায়। ট্রেডিং সেশনের এক পর্যায়ে শেয়ারটির দাম ২০ শতাংশ লাফিয়ে ৫৫৪.৯৫ টাকায় পৌঁছে যায়। যদিও পরবর্তীকালে কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নিতে শুরু করায় দাম সামান্য থিতু হয়। দুপুর ১টা নাগাদ শেয়ারটি প্রায় ১৫.৬০ শতাংশ বেড়ে ৫৩৩ টাকায় লেনদেন হচ্ছিল। সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মনে এখন একটাই প্রশ্ন—কী এমন ঘটল যে এই শেয়ারের কপাল খুলে গেল?

নেপথ্যে বড় সাফল্য: ডাইরেক্ট-টু-মোবাইল (D2M) ট্রায়াল
এই অভাবনীয় উত্থানের পেছনে রয়েছে প্রযুক্তি জগতের এক বিশাল সাফল্য। ‘Exchange4Media’-র একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, তেজাস নেটওয়ার্কসের তৈরি সরঞ্জামগুলো ‘ডাইরেক্ট-টু-মোবাইল’ (D2M) সম্প্রচারের জন্য প্রয়োজনীয় ল্যাব ও ফিল্ড ট্রায়ালে সফলভাবে উত্তীর্ণ হয়েছে। সহজ কথায়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ইন্টারনেট ছাড়াই মোবাইল ফোনে সরাসরি ভিডিও বা টিভি সম্প্রচার করা সম্ভব হতে পারে। বিভিন্ন মন্ত্রকের সমর্থনপুষ্ট এই ট্রায়ালে উত্তীর্ণ হওয়া যেকোনো টেক কোম্পানির জন্য গেম-চেঞ্জার হিসেবে বিবেচিত হয়।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও বাজারের আস্থা
এই ট্রায়ালের সময় সরকারের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা উপস্থিত ছিলেন, যা এই প্রজেক্টের গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে। ল্যাব টেস্টের সময় মূলত ট্রান্সমিটারের বর্ণালীগত সামঞ্জস্য (Spectral Compatibility) এবং বিদ্যমান মোবাইল নেটওয়ার্কের সঙ্গে এটি কতটা নির্বিঘ্নে কাজ করতে পারে, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। তেজাস নেটওয়ার্কস এই কঠিন পরীক্ষায় পূর্ণ নম্বর নিয়ে পাস করায় লগ্নিকারীদের মনে কোম্পানির ভবিষ্যৎ নিয়ে জোরালো আস্থা তৈরি হয়েছে।

বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, কারিগরি এবং নিয়ন্ত্রণমূলক—উভয় মানদণ্ডেই কোম্পানি সফল হওয়ায় তেজাস নেটওয়ার্কস এখন টেলিকম সেক্টরের অন্যতম শক্তিশালী প্রতিযোগী হিসেবে উঠে এসেছে। যারা দীর্ঘ সময় এই শেয়ারটি ধরে রেখেছিলেন, এই আকস্মিক উত্থান তাঁদের কাছে বড়সড় বোনাস হিসেবে ধরা দিয়েছে।