ইরান যুদ্ধে ট্রাম্পের ‘ইউ-টার্ন’! ৪টি বড় ধাক্কার পর কি তবে মাথা নোয়ালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট?

মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনার পারদ তুঙ্গে। একদিকে ইরানের আত্মসমর্পণের ডাক দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, অন্যদিকে একের পর এক রণকৌশল বদলে খোদ হোয়াইট হাউসের অন্দরেই তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। পরিস্থিতি এতটাই জটিল যে, খোদ মার্কিন সংবাদমাধ্যম এনবিসি দাবি করেছে—সৌদি আরবের প্রবল চাপের মুখে পিছু হঠতে বাধ্য হয়েছেন ট্রাম্প।

তিন দফায় অবস্থান বদল ট্রাম্পের
ইরান ইস্যুতে গত কয়েক মাসে ট্রাম্পের অবস্থান ছিল কার্যত অস্থির।

প্রথমত: গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, মার্কিন হামলার প্রভাবে ইরানে অভ্যুত্থান ঘটবে। সেই হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হলেও ট্রাম্পের মূল লক্ষ্য অর্জিত হয়নি।

দ্বিতীয়ত: ৭ মার্চ ট্রাম্প ঘোষণা করেছিলেন, ইরানের সঙ্গে কোনো যুদ্ধবিরতি বা আলোচনা হবে না।

তৃতীয়ত: সেই অনড় অবস্থান থেকে সরে এসে এখন নিজেই আলোচনার পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

ফ্লপ হলো ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’?
হরমুজ প্রণালীতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে উদ্ধারের লক্ষ্যে ৩ এপ্রিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর তত্ত্বাবধানে শুরু হয়েছিল ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’। কিন্তু এই মেগা প্রজেক্ট চালু হওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই ট্রাম্প তা স্থগিতের ঘোষণা দেন। মার্কিন গণমাধ্যমগুলোর দাবি, সৌদি আরব নিজের আকাশসীমা ও সামরিক ঘাঁটি ব্যবহারে আমেরিকাকে বাধা দেওয়ায় এই অভিযান থমকে গিয়েছে। সৌদি আরবের স্পষ্ট বক্তব্য, এই যুদ্ধ শুরু হলে উপসাগরীয় দেশগুলোকেই সরাসরি ক্ষতির শিকার হতে হবে। তাই রিয়াদ এখন তেহরানের সঙ্গে সংঘাতের বদলে সমঝোতা চাইছে।

ইরানের পালটা হুঙ্কার
এদিকে মার্কিন অভিযানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুমকি দিয়েছে ইরানের ‘ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড’। আমেরিকা যখন ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ চালাচ্ছিল, সেই সময়েই সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর একাধিক হামলা চালায় ইরান। এমনকি সৌদি আরবেও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছিল তেহরান।

সৌদি আরবের মাস্টারস্ট্রোক
উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি আরব সরাসরি ওয়াশিংটনকে জানিয়ে দিয়েছে যে, তারা আর নিজেদের ভূমি যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহার করতে দেবে না। মিত্র দেশের এই কড়া অবস্থানের পরেই সুর নরম করেন ট্রাম্প। তিনি নিজেই জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার স্বার্থেই আপাতত ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম’ স্থগিত রাখা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই বারংবার অবস্থান পরিবর্তন আদতে মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন আধিপত্যের টানাপোড়েনকেই তুলে ধরছে। এখন দেখার, ওয়াশিংটন ও তেহরান আলোচনার টেবিলে বসে কোনো দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছাতে পারে কি না।