মধ্যমগ্রাম কাণ্ডে ‘বাংলাদেশ’ কানেকশন? ঝমঝম বৃষ্টিতে শুভেন্দুর ছায়াসঙ্গীকে খুনে নয়া মোড়, সামনে এল হাড়হিম করা ছক!

বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত সহযোগী চন্দ্রনাথ রথের নৃশংস খুনের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে আনছে পুলিশ। তদন্তকারীদের প্রাথমিক অনুমান, কোনো আকস্মিক হামলা নয়, বরং অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এবং নিখুঁত পরিকল্পনার মাধ্যমে চন্দ্রনাথকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ঝমঝম বৃষ্টি আর নির্জনতাকে ঢাল
বুধবার রাত ১০টা নাগাদ যখন মধ্যমগ্রামের মুজিবর রহমান রোড দিয়ে নিজের ফ্ল্যাটে ফিরছিলেন চন্দ্রনাথ, তখন আবহাওয়া ছিল ঘাতকদের সবথেকে বড় সহায়ক। প্রবল বৃষ্টির কারণে রাস্তাঘাট ছিল জনশূন্য। তদন্তকারীরা জানাচ্ছেন, আগে থেকেই ওই নির্জন এবং সিসিটিভি-হীন এলাকাটি বেছে নিয়েছিল আততায়ীরা। যেখানে তাঁর গাড়ি আটকানো হয়, সেই কারখানার সামনে কোনো ক্যামেরা না থাকায় অপরাধীদের চিহ্নিত করতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।

কীভাবে চলল অপারেশন?
তদন্তে উঠে আসছে এক হাড়হিম করা দৃশ্য। চন্দ্রনাথের স্করপিও গাড়িটি যখন সরু রাস্তায় ঢোকে, তখন উল্টো দিক থেকে একটি সাদা গাড়ি এসে রাস্তা আটকে দেয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই পিছন থেকে ধেয়ে আসে একটি বাইক। পুলিশ সূত্রের খবর, পালানোর কোনো পথ না দিয়ে অতি কাছ থেকে ৭.৬৫ বোরের সেমি অটোমেটিক পিস্তল দিয়ে ঝাঁঝরা করে দেওয়া হয় চন্দ্রনাথকে। উন্নত মানের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের ধরণ দেখে মনে করা হচ্ছে, এর পেছনে কোনো পেশাদার সুপারি কিলার গ্যাং কাজ করেছে।

তদন্তে ‘বর্ডার’ যোগের সম্ভাবনা
খুনের পর অপরাধীরা কোন পথ দিয়ে পালাল, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। তবে পুলিশের অনুমান, ঘাতকরা বাদু রোডের পথ ধরে খড়িবাড়ি বা শাসন হয়ে বসিরহাট সীমান্তের দিকে পালানোর চেষ্টা করেছে। আর এই সূত্র ধরেই দানা বাঁধছে নতুন জল্পনা—তবে কি সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশ যোগ রয়েছে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে? রাজ্য পুলিশের একটি দল ইতিমধ্যেই সীমান্তের দিকে নজরদারি বাড়িয়েছে।

পুলিশের দাবি, যে জায়গায় হামলা হয়েছে তা অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে বেছে নেওয়া হয়েছে যাতে স্করপিও গাড়ির গতি বাড়ানো না যায়। বৃষ্টির শব্দে গুলির আওয়াজও ঢাকা পড়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা কিছুই টের পাননি। বর্তমানে এই খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি অন্য কোনো কারণ রয়েছে, তা খতিয়ে দেখতে সিসিটিভি ফুটেজ ও কল রেকর্ড পরীক্ষা করছে সিআইডি ও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন।