“এটা তো কেবল শুরু!” রাজস্থান থেকে পাকিস্তানকে হাড়হিম করা হুঁশিয়ারি সেনার, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তিতে তোলপাড়

এক বছর আগে ঠিক এই দিনেই কেঁপে উঠেছিল শত্রুপক্ষ। আজ, ৭ মে, ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর প্রথম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে জয়পুরে আয়োজিত এক হাই-প্রোফাইল সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল ভারতীয় সেনাবাহিনী। লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, এই অপারেশন কোনো শেষ নয়, বরং সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে এক নতুন লড়াইয়ের সূচনা মাত্র।

“শত্রুকে শিক্ষা দিয়েছি, লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে”:
সংবাদ সম্মেলনে লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাই বলেন, “অপারেশন সিঁদুর প্রমাণ করেছে যে ভারতীয় সেনা যখন আঘাত হানে, তখন তা নির্ভুল এবং ধ্বংসাত্মক হয়। আমরা সফল হয়েছি এবং শত্রুকে উচিত শিক্ষা দিয়েছি। পাকিস্তান যখন আমাদের আঘাত সামলাতে না পেরে আলোচনার টেবিলে বসার জন্য এবং যুদ্ধবিরতির জন্য অনুরোধ জানাতে বাধ্য হয়, তখনই আমরা শত্রুতা নিরসনের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এই অভিযানের ফলে শত্রুপক্ষের নেতৃত্ব এবং নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি তছনছ হয়ে গিয়েছে।

স্বদেশি অস্ত্রের দাপট: ‘মেক ইন ইন্ডিয়া’র জয়গান:
এই অভিযানের অন্যতম বড় সাফল্য হলো দেশীয় প্রযুক্তির ব্যবহার। জেনারেল ঘাইয়ের মতে, অপারেশন সিঁদুরে ব্যবহৃত অস্ত্রশস্ত্রের ৬৫ শতাংশেরও বেশি ছিল ভারতের মাটিতে তৈরি। ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ মিসাইল সিস্টেম থেকে শুরু করে উন্নত নজরদারি ব্যবস্থা ও ইলেকট্রনিক ওয়ারফেয়ার স্যুট—সবই ছিল সম্পূর্ণ দেশীয়। তিনি বলেন, “আত্মনির্ভরশীলতা এখন আর কেবল স্লোগান নয়, এটি আমাদের প্রকৃত শক্তিতে পরিণত হয়েছে। দেশীয় সরঞ্জাম আমাদের সরবরাহ শৃঙ্খল বজায় রাখতে এবং দ্রুত সাড়া দিতে সক্ষম করেছে।”

সাইবার যুদ্ধ ও গোয়েন্দা সাফল্য:
সেনাবাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানে সাইবার ও ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ইউনিটগুলো তথ্যের ক্ষেত্রে একচ্ছত্র আধিপত্য বজায় রেখেছিল। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দেওয়া নিখুঁত তথ্যের ভিত্তিতেই এই সুপরিকল্পিত আক্রমণ চালানো সম্ভব হয়েছিল। ফলে ভারতকে কোনো দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধে জড়াতে হয়নি, অথচ শত্রুর ঝুঁকি গ্রহণের প্রবণতা বদলে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

ন্যূনতম ক্ষয়ক্ষতি, সর্বোচ্চ প্রভাব:
লেফটেন্যান্ট জেনারেল রাজীব ঘাইয়ের দাবি, এই সামরিক অভিযানটি অত্যন্ত শৃঙ্খলা ও নির্ভুলতার সাথে পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে হতাহতের সংখ্যা ছিল ন্যূনতম। অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বজায় রেখে জনগণকে আশ্বস্ত করাই ছিল সরকারের মূল লক্ষ্য, যা সশস্ত্র বাহিনী অত্যন্ত নিপুণভাবে পালন করেছে।

অপারেশন সিঁদুরের প্রথম বার্ষিকীতে সেনার এই মেজাজ বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, সীমান্তে বিন্দুমাত্র উস্কানি দিলে ভারত আর কেবল রক্ষণে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং প্রয়োজনে আরও ভয়াবহ ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’ করতে দ্বিধা করবে না।