পুলিশের নাকে সজোরে ঘুষি তৃণমূল কাউন্সিলরের! শ্রীরামপুরে রণক্ষেত্র, যা ঘটল জানলে চমকে যাবেন

পুলিশের নাকে ঘুষি মেরে রক্তারক্তি কাণ্ড ঘটানোর অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন শ্রীরামপুর পুরসভার ১০ নম্বর ওয়ার্ডের দাপুটে তৃণমূল কাউন্সিলর রাজেশ শা ওরফে কুকুয়া। এই ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে গোটা এলাকায়। কাউন্সিলরের পাশাপাশি তাঁর দুই সঙ্গীকেও পুলিশ হেফাজতে নিয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত:
স্থানীয় সূত্রে খবর, শ্রীরামপুরের টিন বাজার এলাকায় একটি অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্র বেশ কিছুদিন ধরে তালাবন্ধ অবস্থায় ছিল। সেই তালা খুলতে এদিন শ্রীরামপুর থানার পিসি পার্টি এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানরা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। অভিযোগ, পুলিশ তালা খুলতে গেলেই তাতে বাধা দেন কাউন্সিলর রাজেশ শা। এই নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁর তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।
তীব্র উত্তেজনা ও আক্রমণ:
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বচসা চলাকালীন আচমকাই মেজাজ হারান কাউন্সিলর। অভিযোগ, তিনি কর্তব্যরত এএসআই নটরাজকে লক্ষ্য করে সজোরে ঘুষি মারেন। ঘুষির আঘাতে ওই পুলিশ আধিকারিকের নাক ফেটে রক্ত ঝরতে শুরু করে। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে পুলিশ তৎক্ষণাৎ কাউন্সিলর ও তাঁর দুই সঙ্গীকে গ্রেপ্তার করে। আহত পুলিশ আধিকারিককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
রাজনৈতিক চাপানউতোর:
এই ঘটনায় শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। শ্রীরামপুরের বিজেপি বিধায়ক ভাস্কর ভট্টাচার্য বলেন, “আমরা চাই এলাকায় আইনের শাসন থাকুক। পুলিশ কার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে সেটা তাদের বিষয়, আমরা কোনো হস্তক্ষেপ করব না। তবে অপরাধ করলে পুলিশ যেন রং না দেখে ব্যবস্থা নেয়।”
অন্যদিকে, গ্রেপ্তার হওয়ার পর আদালতে যাওয়ার পথে তৃণমূল কাউন্সিলর রাজেশ শা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “পাড়ায় সমাধান কর্মসূচির মাধ্যমে ওই অঙ্গনওয়াড়ি কেন্দ্রটি তৈরি হয়েছিল। বিজেপি ও সিপিএম সেটি দখল করতে আসায় ঝামেলা হয়। আমি কারো গায়ে হাত দিইনি। আমার ওয়ার্ডে ভালো লিড আসায় রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে আমাকে ফাঁসানো হয়েছে।”
আপাতত কাউন্সিলরের গ্রেপ্তারি নিয়ে উত্তপ্ত শ্রীরামপুরের রাজনীতি। পুলিশ পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে।