কলমের দিন শেষ! এই ১টি ছোট কাজ না করলে মাঝপথে আটকে যাবে ব্যাঙ্কিং থেকে সব কাজ

বর্তমান যুগে আপনি ব্যাঙ্কিং, বিমা কিংবা কোনো সরকারি টেন্ডারের কাজ করছেন অথচ ডিজিটাল সিগনেচার বা ই-সিগনেচারের নাম শোনেননি, এমনটা হওয়া প্রায় অসম্ভব। বিশেষ করে ই-রিসিপ্ট, ই-ওয়েবিল এবং ই-ইনভয়েস তৈরির জন্য এই টোকেন বা সই এখন অপরিহার্য। কিন্তু অনেক সময় আমাদের মনে প্রশ্ন জাগে, এই ই-সিগনেচার আদেও কতটা নিরাপদ? বা কীভাবে সহজেই এটি নিজের নামে করে নেওয়া যায়? চলুন জেনে নিই বিস্তারিত।

ই-সিগনেচার আসলে কী? কেন এটি সাধারণ PDF-এর চেয়ে আলাদা?
সহজ ভাষায় বলতে গেলে, ডিজিটাল নথিপত্রকে সুরক্ষিত রাখতে ইলেকট্রনিক প্রক্রিয়ায় যে স্বাক্ষর করা হয়, তাই হলো ই-সিগনেচার। তবে এটি কেবল একটি ছবি বা স্ক্যান করা সই নয়। এর পেছনে থাকে একটি জটিল ‘ক্রিপটোগ্রাফিক কী’ (Key)। যা নথিটিকে এনক্রিপটেড করে রাখে।

সাধারণ PDF থেকে ই-ডকুমেন্ট আলাদা হওয়ার কারণ হলো, ই-সিগনেচার যুক্ত ফাইল মেশিন ও সফটওয়্যার সরাসরি রিড করতে পারে। ফলে রেকর্ড রাখা বা অডিট ট্রায়ালের ক্ষেত্রে এটি অনেক বেশি কার্যকর এবং জালিয়াতি করা প্রায় অসম্ভব।

কতটা নিরাপদ এই ব্যবস্থা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাতে লেখা স্বাক্ষরের চেয়ে ডিজিটাল স্বাক্ষর অনেক বেশি নিরাপদ। প্রবীণ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট রাকেশ ছত্তার এই বিষয়ে জানিয়েছেন, “ডিজিটাল স্বাক্ষর করার পর নথিটি সাধারণত পিডিএফ ফরম্যাটে লক হয়ে যায়। এরপর যদি নথির মূল তথ্যে কোনো পরিবর্তন করা হয়, তবে ওই স্বাক্ষরটি তৎক্ষণাৎ অবৈধ হয়ে যায়। অর্থাৎ, হ্যাকাররা চাইলেই আপনার সই করা নথিতে কোনো রদবদল করতে পারবে না।”

আবেদনের খুঁটিনাটি: খরচ কত?
ভারতে তথ্যপ্রযুক্তি আইন ২০০০-এর আওতায় ডিজিটাল সিগনেচার সার্টিফিকেট (DSC) প্রদান করা হয়। ইমুদ্রা (eMudhra)-সহ প্রায় ৬টি লাইসেন্সপ্রাপ্ত সংস্থা এই সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে। এর মেয়াদ সাধারণত ১ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত হয় এবং ধরন অনুযায়ী খরচ হতে পারে ১০০০ থেকে ৩০০০ টাকার মধ্যে। মনে রাখবেন, সার্টিফিকেট যে সংস্থাই দিক না কেন, তা ভেরিফাই করার চূড়ান্ত ক্ষমতা রয়েছে শুধুমাত্র ‘কন্ট্রোলার অফ সার্টিফাইং অথরিটিজ’ (CCA)-এর কাছে।

ঘরে বসে কীভাবে করবেন আবেদন?
খুবই সহজ কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করে আপনি ই-সিগনেচার পেতে পারেন:

১. সংস্থা নির্বাচন: প্রথমে CCA লাইসেন্সপ্রাপ্ত যেকোনো পোর্টাল (যেমন: eMudhra, VSign বা CSC eSign) বেছে নিন।
২. ক্যাটাগরি: আপনার প্রয়োজন অনুযায়ী ‘Class 3’ সার্টিফিকেট নির্বাচন করুন, যা সবথেকে বেশি নিরাপদ।
৩. আবেদন: পোর্টালে নাম, ইমেল এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে ফর্ম পূরণ করুন।
৪. নথি আপলোড: নিজের ছবিসহ প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র ও ঠিকানার প্রমাণপত্র (যেমন- প্যান কার্ড, ড্রাইভিং লাইসেন্স বা পাসপোর্ট) আপলোড করতে হবে।
৫. ভেরিফিকেশন: মোবাইলে আসা OTP যাচাই করার পর আপনাকে একটি ভিডিও ভেরিফিকেশন করতে হবে। যেখানে ক্যামেরার সামনে নিজের পরিচয় নিশ্চিত করতে হয়।
৬. ডাউনলোড: সব প্রক্রিয়া সফল হলে অনুমোদন মিলবে। এরপর আপনি আপনার ডিজিটাল সিগনেচারটি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন অথবা USB টোকেনে সংগ্রহ করতে পারবেন।

বর্তমান ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজেকে ও নিজের ব্যবসাকে সুরক্ষিত রাখতে ই-সিগনেচার ব্যবহারের কোনো বিকল্প নেই। তাই আজই সরকারি নিয়ম মেনে সংগ্রহ করে নিন আপনার ডিজিটাল পরিচয়।