বিছানায় মিলল দেহ, ঘরেই ছিলেন প্রেমিকা! পাটনার হোটেলে যুবকের রহস্যমৃত্যুতে ঘনীভূত রহস্য

বিহারের রাজধানী পাটনার একটি হোটেলের বন্ধ ঘর থেকে এক যুবকের নিথর দেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বৈরিয়া বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন রামকৃষ্ণ নগর থানা এলাকার একটি হোটেলে এই রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনাটি ঘটেছে। মৃত যুবকের নাম সন্তোষ কুমার শর্মা, তিনি জেহানাবাদের বাসিন্দা। ঘটনার সময় ঘরে উপস্থিত থাকা তাঁর প্রেমিকাকে ইতিমধ্যেই আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে পুলিশ।
রাতভর সঙ্গিনী, সকালেই নিথর দেহ
তদন্তে জানা গেছে, সন্তোষ পাটনা এলে প্রায়ই ওই হোটেলে রাত্রিযাপন করতেন। তবে প্রতিবার তাঁর সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বান্ধবী থাকত বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। এবার তিনি কলকাতা নিবাসী তাঁর এক পুরোনো বান্ধবীকে ওই হোটেলে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, রাত পর্যন্ত ঘর থেকে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ পাওয়া যায়নি। কিন্তু সকালে আচমকাই ওই যুবতী কর্মীদের জানান যে সন্তোষ মৃত অবস্থায় পড়ে আছেন।
তদন্তে মিলল রহস্যময় ওষুধ ও চাদর
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সিলিং ফ্যান থেকে চাদর দিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় সন্তোষের মৃতদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক তদন্তে যুবকের শরীরে কোনো ধস্তাধস্তির চিহ্ন পাওয়া যায়নি, যা রহস্য আরও বাড়িয়ে তুলেছে। তবে ঘর তল্লাশি করে বেশ কিছু ‘শক্তি বর্ধক’ ওষুধ উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এই ওষুধগুলোর সাথে মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পরিবারের খুনের অভিযোগ ও পুলিশের পদক্ষেপ
সন্তোষের পরিবারের সদস্যরা এই ঘটনাকে নিছক আত্মহত্যা বলে মানতে নারাজ। তাঁদের অভিযোগ, সন্তোষকে পরিকল্পিতভাবে খুন করা হয়েছে এবং এতে তাঁর বান্ধবীর প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে। এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ ওই যুবতীকে হেফাজতে নিয়ে জেরা করছে।
সদর-২-এর এসডিপিও রঞ্জন কুমার জানিয়েছেন, “পাটলিপুত্র বাসস্ট্যান্ডের কাছে একটি গেস্ট হাউস থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রাথমিকভাবে সন্দেহজনক বলে মনে হচ্ছে। বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহের জন্য ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাব (এফএসএল) টিমকে ডাকা হয়েছে।”
পুলিশ মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে এলেই জানা যাবে এটি আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো চক্রান্ত। আপাতত রহস্যের জট খুলতে হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজ এবং মৃত যুবকের কল ডিটেইলস খতিয়ে দেখছে রামকৃষ্ণ নগর থানার পুলিশ।