বিসিসিআই-এর বড় কোপ! চিন্নাস্বামী থেকে সরছে ফাইনাল; বিধায়কদের ‘টিকিট-লোভ’-এ কপাল পুড়ল কোহলিদের?

আইপিএল ২০২৬-এর ফাইনাল ঘিরে বড়সড় ওলটপালট হয়ে গেল ক্রিকেট সূচিতে। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (RCB)-র ঘরের মাঠ এম. চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে মেগা ফাইনাল হওয়ার কথা থাকলেও, শেষ মুহূর্তে সেই অধিকার কেড়ে নিল বিসিসিআই। আইপিএলের ১৯তম আসরের ফাইনাল লড়াই এখন বেঙ্গালুরু থেকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে। কিন্তু কেন এমন চরম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হলো বোর্ড? নেপথ্যে উঠে আসছে কর্ণাটকের বিধায়কদের টিকিটের চাহিদা নিয়ে তৈরি হওয়া এক নজিরবিহীন বিতর্ক।

ভেন্যু বদলের আসল কারণ কী?
বিসিসিআই-এর প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের সম্মান জানাতে বেঙ্গালুরুকেই ফাইনালের ভেন্যু হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছিল। তবে মাঠের বাইরে এক রাজনৈতিক চাপানউতোর এই সিদ্ধান্ত বদলে দিয়েছে। সূত্রের খবর, কর্ণাটকের স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের অযৌক্তিক চাহিদা এবং প্রশাসনিক জটিলতার কারণেই ফাইনাল আয়োজনের অধিকার হারিয়েছে আইপিএলের অন্যতম জনপ্রিয় এই মাঠটি।

বিধায়ক বনাম ক্রিকেট বোর্ড: যেখান থেকে বিতর্কের শুরু
ঘটনার সূত্রপাত আইপিএল ২০২৬-এর উদ্বোধনী ম্যাচের আগে। কংগ্রেস বিধায়ক বিজয়ানন্দ কাশাপ্পানাবর দাবি তোলেন যে, প্রতিটি ম্যাচের জন্য প্রত্যেক বিধায়ককে অন্তত পাঁচটি করে ‘ফ্রি’ টিকিট দিতে হবে। তাঁর যুক্তি ছিল, বিধায়করা জনপ্রতিনিধি, তাই তাঁদের টিকিটের জন্য সাধারণ মানুষের মতো লাইনে দাঁড় করানো ঠিক নয়। বিতর্ক আরও উসকে দেন কর্ণাটকের উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডিকে শিবকুমার। তিনি প্রস্তাব দেন, পাঁচটির বদলে প্রত্যেক বিধায়ক ও সাংসদকে অন্তত তিনটি করে টিকিট দেওয়া হোক।

টিকিট নিয়ে টানাপোড়েন ও কড়া অবস্থান
এই ঘটনা নিয়ে কর্ণাটক বিধানসভাতেও শোরগোল পড়ে যায়। টিকিট অপব্যবহারের অভিযোগ উঠলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জি. পরমেশ্বর স্পষ্ট জানান, টিকিট অনলাইনে বুক হয় এবং সেগুলো হস্তান্তরযোগ্য নয়। অর্থাৎ, বিধায়কের টিকিট কেবল তিনি বা তাঁর পরিবারের সদস্যরাই ব্যবহার করতে পারবেন। এই গোটা প্রক্রিয়ায় স্থানীয় কর্মকর্তাদের এমন কিছু দাবি ছিল, যা বিসিসিআই-এর নির্ধারিত প্রোটোকল ও স্বচ্ছতার নীতির পরিপন্থী।

বিসিসিআই-এর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত
বিসিসিআই স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিল, যদি স্থানীয় বিধায়ক ও কর্মকর্তাদের এই টিকিট কেন্দ্রিক বিবাদ এবং প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ বন্ধ না হয়, তবে তারা বিকল্প পথে হাঁটবে। শেষ পর্যন্ত কোনো সমাধান না মেলায় ক্রিকেটের স্বার্থে ও গ্যালারির শৃঙ্খলার কথা মাথায় রেখে ফাইনালের ভেন্যু সরিয়ে আহমেদাবাদে নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় জয় শাহর নেতৃত্বাধীন বোর্ড।

বিসিসিআই-এর মতে, টিকিট বন্টন নিয়ে রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করা এবং বোর্ডের প্রোটোকল ভাঙার চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না। ফলে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে প্রিয় দলের হাতে ট্রফি দেখার যে স্বপ্ন বেঙ্গালুরুর ক্রিকেট প্রেমীরা দেখেছিলেন, তাতে একরাশ জল ঢেলে দিল এই ‘টিকিট-বিতর্ক’। এখন ক্রিকেট মহলের নজর ৫ মে আহমেদাবাদের দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে আইপিএল ২০২৬-এর ভাগ্য।