ক্রেডিট কার্ড ছাড়াই EMI! ডেবিট কার্ডের এই সুবিধা কি আপনার ক্রেডিট স্কোর ধ্বংস করছে?

অনলাইন শপিং হোক বা বড় কোনো ইলেকট্রনিক্স দোকান—বর্তমানে ‘ডেবিট কার্ড EMI’ অপশনটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ক্রেডিট কার্ড নেই তো কী হয়েছে? ডেবিট কার্ডেই পাওয়া যাচ্ছে সহজ কিস্তিতে জিনিস কেনার সুযোগ। কিন্তু আপনি কি জানেন, আপনার এই অভ্যাসের সরাসরি প্রভাব পড়ছে আপনার ‘ক্রেডিট স্কোর’ বা ‘CIBIL Score’-এর ওপর? বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই।

কেন ব্যাঙ্ক একে লোন হিসেবে দেখে?
অনেকেরই ধারণা, নিজের জমানো টাকা থেকেই যেহেতু EMI কাটা যাচ্ছে, তাই এর সঙ্গে লোনের কোনো সম্পর্ক নেই। এটি একটি বড় ভুল ধারণা। আপনি যখন ডেবিট কার্ডে EMI বেছে নেন, তখন ব্যাঙ্ক বা ফিন্যান্স কোম্পানি আপনার হয়ে দোকানদারকে পুরো টাকা পরিশোধ করে দেয়। এই টাকাটি তখন আপনার জন্য একটি ‘কনজিউমার ডিউরেবল লোন’ (Consumer Durable Loan) হিসেবে গণ্য হয়। ফলে এই লোনের তথ্য নিয়মিতভাবে CIBIL, Experian বা Equifax-এর মতো ক্রেডিট ব্যুরো সংস্থাকে জানানো হয়।

আপনার ক্রেডিট স্কোরে এর প্রভাব কেমন?
১. সঠিক পেমেন্টে বাড়বে স্কোরের মান (Positive Impact):
আপনি যদি নিয়ম মেনে প্রতি মাসে সঠিক তারিখে EMI পরিশোধ করেন, তবে আপনার রিপেমেন্ট হিস্ট্রি অত্যন্ত শক্তিশালী হয়। এটি ব্যাঙ্কের কাছে আপনার বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ায় এবং ভবিষ্যতে হোম লোন বা পার্সোনাল লোন পাওয়ার পথ সহজ করে দেয়।

২. EMI বাউন্স হলে বিপদ (Negative Impact):
আপনার অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় যদি কোনো মাসে EMI বাউন্স করে, তবে সেটি ‘ডিফল্ট’ হিসেবে গণ্য হবে। এটি আপনার ক্রেডিট স্কোর দ্রুত কমিয়ে দেবে। একবার স্কোর পড়ে গেলে ভবিষ্যতে বড় কোনো প্রয়োজনে লোন পাওয়া দুঃসাধ্য হয়ে পড়বে।

৩. অতিরিক্ত EMI-এর চাপ:
অতিরিক্ত শখের বশে যদি একসঙ্গে একাধিক EMI চালু রাখেন, তবে ব্যাঙ্ক মনে করতে পারে আপনি অতিরিক্ত ঋণের জালে জড়িয়ে পড়ছেন। এটি আপনার ক্রেডিট প্রোফাইলকে দুর্বল করে তোলে।

কী কী সতর্কতা অবলম্বন করবেন?
অ্যাকাউন্টে ব্যালেন্স রাখুন: EMI কাটার দিন অন্তত আগের দিন অ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা নিশ্চিত করুন। মনে রাখবেন, অটো-ডেবিট ফেল করলে ২৫০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত ‘বাউন্স চার্জ’ গুনতে হতে পারে।

লুকানো খরচ (Hidden Charges): অনেক সময় “No Cost EMI” বলা হলেও প্রসেসিং ফি বা GST-এর মতো বাড়তি খরচ জুড়ে দেওয়া হয়। কেনার আগে কাগজগুলো ভালো করে পড়ে নিন।

আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য: নিজের আয়ের কত শতাংশ EMI-তে যাচ্ছে, তার দিকে খেয়াল রাখুন। অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা করে ক্রেডিট স্কোর খারাপ করবেন না।

সম্পাদকীয় পরামর্শ: ডেবিট কার্ড EMI আপনার কেনাকাটাকে সহজ করে ঠিকই, কিন্তু এটি এক ধরণের আর্থিক দায়বদ্ধতা। তাই কেনাকাটার আগে নিজের পকেটের অবস্থা বুঝে তবেই কিস্তির ফাঁদে পা দিন। দায়িত্বশীল গ্রাহক হোন, ক্রেডিট স্কোর বজায় রাখুন।