২৫-শে বৈশাখের ভোরেই কি নবান্নে নতুন ‘সূর্যোদয়’? প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে রাজতিলক পরবেন কোন ভূমিপুত্র?

দীর্ঘ পনেরো বছরের ঘাসফুল শাসনের অবসান। রেকর্ড ভাঙা জনাদেশ নিয়ে বাংলার মসনদে বসতে চলেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। তৃণমূলকে মাত্র ৮১ আসনে আটকে দিয়ে দুই-শোর বেশি বিধায়ক নিয়ে এবার সরকার গড়ার চূড়ান্ত প্রস্তুতি শুরু করেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই বিশাল জয়ের পর এখন কোটি টাকার প্রশ্ন একটাই— বাংলার মসনদে কে বসছেন? কার মাথায় উঠতে চলেছে রাজতিলক?

পঁচিশে বৈশাখের পুণ্যলগ্নে মেগা শপথ:
বাংলার আবেগকে ছুঁতে এক মাস্টারস্ট্রোক দিতে চলেছে বিজেপি। আগামী ৯ মে, অর্থাৎ ২৫-শে বৈশাখ রবীন্দ্রজয়ন্তীর দিনেই বাংলার নতুন সরকার শপথ নিতে পারে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই বিশেষ দিনটির ইঙ্গিত দিয়ে জানিয়েছেন, গুরুদেবের আদর্শকে পাথেয় করেই সোনার বাংলা গড়ার কাজ শুরু হবে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও নিশ্চিত করেছেন যে, ৯ মে হতে চলেছে এক ঐতিহাসিক দিন। এই মেগা ইভেন্টে প্রধানমন্ত্রী ছাড়াও উপস্থিত থাকতে পারেন অমিত শাহ ও নীতিন নবীনের মতো কেন্দ্রীয় শীর্ষ নেতৃত্ব।

কে হচ্ছেন সেই রহস্যময় ‘ভূমিপুত্র’?
মুখ্যমন্ত্রীর নাম নিয়ে বিজেপির অন্দরে এখন থ্রিলার সিনেমার মতো সাসপেন্স। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ আগেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন যে, বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন খাঁটি ‘ভূমিপুত্র’, যিনি বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন। এদিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারের এক সরস মন্তব্য জল্পনার আগুনে ঘি ঢেলেছে। তিনি জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন খাঁটি ‘আমিষভোজী’ বাঙালি।

দৌড়ে এগিয়ে কারা?
মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে এই মুহূর্তে সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। তবে রাজ্য রাজনীতিতে দাপুটে নেতা দিলীপ ঘোষ, শমীক ভট্টাচার্য কিংবা নিশীথ প্রামাণিকের নাম নিয়েও জোর চর্চা চলছে। পিছিয়ে নেই উৎপল ব্রহ্মচারী বা স্বপন দাশগুপ্তের মতো ব্যক্তিত্বরাও।

দিল্লি থেকে আসা সিলমোহর দেওয়া খামে শেষ পর্যন্ত কার নাম থাকে, এখন সেটাই দেখার। ২৫-শে বৈশাখের ভোরেই পরিষ্কার হবে বাংলার নতুন ভাগ্যবিধাতার নাম।