দিল্লি যাওয়ার আগেই বোমা ফাটালেন সুনীল বনসল! বাংলার মুখ্যমন্ত্রী পদে কি বড় কোনো চমক আসছে?

বাংলায় পনেরো বছরের ঘাসফুল দুর্গের পতন ঘটিয়ে এখন বিজয় উৎসবে মেতেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই উৎসবের আবহেও রাজ্য রাজনীতির অন্দরে একটা প্রশ্নই সবচেয়ে বেশি ঘুরপাক খাচ্ছে— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? এই পাহাড়প্রমাণ কৌতূহল আর জল্পনার মাঝেই এবার মুখ খুললেন বঙ্গ-বি জয়ের অন্যতম কাণ্ডারি তথা বিজেপির জাতীয় সাধারণ সম্পাদক সুনীল বনসল।

দিল্লি যাত্রার আগে সংক্ষিপ্ত বার্তা:
বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পরই রাজ্য নেতৃত্বের একটি বড় অংশ দিল্লির উদ্দেশে রওনা দিচ্ছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে জল্পনা ছড়িয়েছিল যে, হয়তো মুখ্যমন্ত্রী বাছাইয়ের কাজ চূড়ান্ত করতেই এই জরুরি তলব। তবে দিল্লি যাওয়ার পথে সুনীল বনসল সাফ জানিয়ে দিলেন, “সবাইকে অনেক অনেক অভিনন্দন। আমি দিল্লি যাচ্ছি ঠিকই, তবে মুখ্যমন্ত্রী পদ নিয়ে এখনও পর্যন্ত কোনও আলোচনাই হয়নি।”

চাণক্য-নীতিতে বাজিমাত:
উত্তরপ্রদেশ, ওড়িশা ও তেলেঙ্গানায় সাফল্যের পর বাংলায় এসে যেভাবে বুথ স্তর পর্যন্ত সংগঠনকে শক্তিশালী করেছেন সুনীল বনসল, তাতে অনেকেই তাঁকে ‘আধুনিক চাণক্য’ বলছেন। যে দলকে একসময় ‘বহিরাগত’ বলে কটাক্ষ করা হতো, সেই দলকেই বাংলার ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছেন তিনি। অমিত শাহের এই অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ নেতার নির্দেশেই কেন্দ্রীয় প্রকল্পগুলোকে হাতিয়ার করে তৃণমূলের দুর্ভেদ্য দুর্গে থাবা বসিয়েছে বিজেপি।

সাসপেন্স তুঙ্গে নবান্ন নিয়ে:
ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী পদে একাধিক নাম নিয়ে চর্চা চলছে। শুভেন্দু অধিকারী থেকে শুরু করে রাজ্য বিজেপির প্রবীণ নেতাদের নাম নিয়ে যখন জল্পনা তুঙ্গে, ঠিক তখনই বনসলের এই মন্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বনসল আসলে দলের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা বজায় রাখতেই আপাতত এই বিষয়ে মুখ খুলতে নারাজ। মুখ্যমন্ত্রী কে হবেন, তা নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত যে খোদ দিল্লি থেকেই আসবে, সেই ইঙ্গিতই তিনি দিয়ে রাখলেন।

কেন এই নীরবতা?
সুনীল বনসল বরাবরই প্রচারের আলোর আড়ালে থেকে সাংগঠনিক কাজ করতে পছন্দ করেন। বাংলায় তাঁর এই ম্যাজিক কাজ করে যাওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই তাঁর মতামতের গুরুত্ব এখন অপরিসীম। তবে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আগে বিজেপি যে কোনও তাড়াহুড়ো করতে চাইছে না, তা বনসলের কথাতেই পরিষ্কার।

বাংলার মাটিতে পদ্ম তো ফুটেছে, কিন্তু সেই পদ্ম-সিংহাসনে শেষ পর্যন্ত কে বসেন, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য। দিল্লি থেকে ফেরার পর বনসল নতুন কোনও খামবন্দি নাম নিয়ে আসেন কি না, এখন সেটাই দেখার।