জয়ের পরেই কড়া দাওয়াই! উচ্ছ্বাসের নামে তাণ্ডব করলে সোজা দল থেকে আউট, হুঁশিয়ারি শমীক ভট্টাচার্যের

দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জয়ের স্বাদ পেয়েছে বিজেপি। ১৫ বছরের তৃণমূল জমানার অবসান ঘটিয়ে বাংলার মসনদে এখন গেরুয়া ঝড়ের দাপট। কিন্তু এই আকাশছোঁয়া সাফল্যের আনন্দের মাঝেই বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে অতি-উৎসাহী কিছু কর্মী-সমর্থকের আচরণ। রাজ্যের বেশ কিছু জায়গায় বিজেপির পতাকা হাতে ভাঙচুর ও অশান্তি সৃষ্টির খবর আসতেই এবার রুদ্রমূর্তি ধারণ করলেন রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য।

“দল থেকে বহিষ্কার করব”, সাফ কথা শমীকের:
আজ এক সাংবাদিক সম্মেলনে শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, জয়ের উচ্ছ্বাসের নামে কোনও অরাজকতা বিজেপি সহ্য করবে না। তিনি বলেন, “কিছু জায়গায় মানুষ বিজেপির পতাকা নিয়ে ভাঙচুরে জড়িয়েছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা করছি। স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই, যদি আমাদের দলের কেউ এমন কাজে লিপ্ত হয়, তবে তাকে দল থেকে বহিষ্কার করতে আমরা দ্বিতীয়বার ভাবব না।”

উৎসব হোক শৃঙ্খলায়:
বঙ্গ-বিজয়ের খবর ছড়িয়ে পড়তেই দিল্লি থেকে দক্ষিণ ভারত— সর্বত্র উৎসবের মেজাজ। একে ‘পূর্ব ভারতের রাজনৈতিক বিপ্লব’ হিসেবে দেখছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব। কিন্তু শমীক ভট্টাচার্যের মতে, এই জয় দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। কর্মীদের উদ্দেশে তাঁর নির্দেশ, “এখন আমাদের সামনে অনেক বড় চ্যালেঞ্জ। প্রশাসনকে স্বাভাবিক করা থেকে শুরু করে শিল্পায়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই— অনেক কাজ বাকি। তাই শান্ত থাকুন, কারও অনুভূতিতে আঘাত দেবেন না।”

পরিণত রাজনীতির বার্তা:
রাজনৈতিক মহলের মতে, শমীক ভট্টাচার্যের এই কড়া বার্তা আসলে বিজেপির ‘ম্যাচিউরড’ বা পরিণত রাজনীতিরই প্রমাণ। সাধারণত ভোটের ফল বেরোনোর পর রাজ্যে যে হিংসার পরিবেশ তৈরি হয়, সেই ধারাকে শুরুতেই সমূলে বিনাশ করতে চাইছে পদ্ম শিবির। প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই এখন বিজেপির প্রধান লক্ষ্য।

চ্যালেঞ্জ যখন পাহাড়প্রমাণ:
ভোটের ফল বলছে মানুষ বদল চেয়েছে। কিন্তু সেই বদল যেন ভয়ের কারণ না হয়ে দাঁড়ায়, সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি নেতৃত্বের। আরজি কর থেকে শুরু করে শিক্ষা দুর্নীতি— যে সমস্ত ইস্যু নিয়ে বিজেপি লড়াই করেছে, ক্ষমতায় এসে সেই স্বচ্ছতা বজায় রাখাই এখন মূল চ্যালেঞ্জ। আর সেই পথ প্রশস্ত করতেই ঘরোয়া কর্মীদের লাগাম পরাতে বাধ্য হলেন রাজ্য সভাপতি।