রাজ্যে সরকার ওল্টাতেই কি বন্ধ হচ্ছে ‘যুবসাথী’র টাকা? মে মাসের কিস্তি নিয়ে বড় আপডেট, মাথায় হাত বেকারদের!

বাংলায় পনেরো বছরের জমানার অবসান ঘটেছে। ঘাসফুল শিবিরকে সরিয়ে এখন নবান্নের ক্ষমতায় আসতে চলেছে গেরুয়া শিবির। কিন্তু এই রাজনৈতিক মহাপ্রলয়ের মাঝেই সবথেকে বড় দুশ্চিন্তার ভাঁজ পড়েছে রাজ্যের লক্ষ লক্ষ বেকার যুবক-যুবতীদের কপালে। প্রশ্ন একটাই— মে মাসে কি ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ১৫০০ টাকা ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢুকবে? না কি সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথেই ইতি ঘটতে চলেছে এই জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের?

অনিশ্চয়তার মেঘ যুবসাথী ঘিরে:
সদ্য প্রাক্তন তৃণমূল সরকার ভোটের ঠিক আগে বেকারদের স্বনির্ভর করতে ‘যুবসাথী’ প্রকল্পের ঘোষণা করেছিল। মার্চ মাস থেকে যোগ্য আবেদনকারীদের অ্যাকাউন্টে টাকা ঢোকাও শুরু হয়েছিল। কিন্তু সোমবার গণনার ফলাফল স্পষ্ট হতেই ছবিটা বদলে গিয়েছে। ২১ থেকে ৪০ বছর বয়সী আবেদনকারীরা এখন আতঙ্কে— কারণ এই প্রকল্প ছিল মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাধের উদ্যোগ। সরকার বদলে যাওয়ায় এই প্রকল্পের টাকা পাওয়া নিয়ে এখন প্রবল দোলাচল তৈরি হয়েছে।

কী হতে পারে যুবসাথীর ভবিষ্যৎ?
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে এই প্রকল্পের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। নিয়ম অনুযায়ী, মে মাসের কিস্তি এই সপ্তাহেই ঢোকার কথা। কিন্তু নতুন সরকার এখনও শপথ নেয়নি, তার ওপর প্রশাসনিক স্তরে বড়সড় রদবদল চলছে। সরকারি ভাবে এখনও কোনও ‘নোটিফিকেশন’ জারি না হলেও, নবান্নের অলিন্দে কান পাতলে শোনা যাচ্ছে, নতুন সরকার আসার পর সমস্ত জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের অডিট বা পুনর্মূল্যায়ন হতে পারে।

বিজেপি-র অবস্থান কী?
প্রচারে থাকাকালীন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। তাঁর মতে, এটি স্থায়ী কর্মসংস্থানের বদলে কেবল ভোট পাওয়ার একটি কৌশল। তবে রাজনীতির ময়দানে সাধারণত জনপ্রিয় প্রকল্পগুলো সরাসরি বন্ধ করে দেওয়া হয় না। পরিবর্তে বিজেপি নেতৃত্ব অনেক ক্ষেত্রে প্রকল্পের নাম বদলে ‘উন্নততর’ পরিষেবা বা সরাসরি কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলে থাকে।

কবে কাটবে ধোঁয়াশা?
বিজেপি সরকার গঠন করার পর তাদের প্রথম মন্ত্রিসভার বৈঠকেই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হতে পারে। ততদিন পর্যন্ত মে মাসের টাকা পাওয়া নিয়ে একপ্রকার অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে। তবে ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বিজেপি যদি যুবসাথী বন্ধ করে দেয়, তবে বিকল্প কোনও বড় স্কিম তারা ঘোষণা করতে পারে।

এখন দেখার, পঁচিশে বৈশাখ নতুন মুখ্যমন্ত্রী শপথ নেওয়ার পর বাংলার বেকারদের জন্য ‘যুবসাথী’র দরজা খোলা থাকে না কি অন্য কোনও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হয়।