মেট গালার মঞ্চে ১৮০০ ক্যারেট হিরে-পান্নার ব্লাউজ! ইশা আম্বানির গায়ে কি তবে রাজস্থানি লোকশিল্প না কি চলন্ত খনি?

বিশ্ব ফ্যাশনের মহাকুম্ভ ‘মেট গালা ২০২৬’-এর মঞ্চে ফের একবার তেরঙার জয়গান গাইলেন ইশা আম্বানি। এবার শুধু ফ্যাশন নয়, বরং ভারতের হাজার বছরের পুরনো ঐতিহ্য ও শিল্পকলাকে গ্লোবাল প্ল্যাটফর্মে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন তিনি। বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার গৌরব গুপ্তার ডিজাইন করা একটি রাজকীয় সোনালি শাড়িতে যখন ইশা রেড কার্পেটে পা রাখলেন, তখন ক্যামেরার ফ্ল্যাশ যেন থমকে গিয়েছিল তাঁর আভিজাত্যের ছটায়।

১৮০০ ক্যারেট হিরে আর মায়ের স্মৃতি:
ইশার এবারের লুকে সবচেয়ে বড় চমক ছিল তাঁর ব্লাউজটি। এটি কোনও সাধারণ পোশাক নয়, বরং ১৮০০ ক্যারেটের বেশি আসল হিরে, পান্না এবং বহুমূল্য রত্ন দিয়ে খচিত একটি শিল্পকর্ম। ইশা নিজেই জানিয়েছেন, এই ব্লাউজটির কারুকার্যে ব্যবহৃত পাথরগুলো আসলে তাঁর মা নীতা আম্বানির ব্যক্তিগত সংগ্রহের গয়নার বিভিন্ন অংশ। মায়ের গয়নাকে নতুন আঙ্গিকে পোশাকে ফুটিয়ে তুলে এক অনন্য আবেগের ছোঁয়া দিয়েছেন তিনি।

সোনার সুতোয় ‘পিছওয়াই’ ম্যাজিক:
রিল্যায়েন্সের নিজস্ব ব্র্যান্ড ‘স্বদেশ’-এর দক্ষ কারিগররা খাঁটি সোনার সুতো দিয়ে এই শাড়িটি তৈরি করেছেন। রাজস্থানি লোকশিল্পের অন্যতম অংশ ‘পিছওয়াই’ মোটিফ হাতে আঁকা হয়েছে এই শাড়িতে। গৌরব গুপ্তার সিগনেচার স্টাইলের কেপ ইশার লুকে যোগ করেছিল এক রাজকীয় গাম্ভীর্য।

হাতে ‘আম’ আর চুলে ভাস্কর্য!
পোশাকের পাশাপাশি নেটদুনিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে ইশার হ্যান্ডব্যাগটি। ভারতের জাতীয় ফল আমের আদলে তৈরি এই ব্যাগটি এ বছরের থিম ‘ফ্যাশন ইজ আর্ট’-এর এক সার্থক প্রতিফলন। শুধু তাই নয়, চুলে সাধারণ গজরার বদলে শিল্পী সৌরভ গুপ্তার তৈরি কাগজ, তামা ও ব্রাস দিয়ে নির্মিত একটি বিশেষ ভাস্কর্য ব্যবহার করেছিলেন ইশা।

উপসংহার:
প্রখ্যাত শিল্পী সুবোধ গুপ্তার ঘরানাকে অনুসরণ করে নিত্যদিনের ব্যবহার্য জিনিসকে (যেমন আম বা তামা) যেভাবে আভিজাত্যের মোড়কে ইশা বিশ্বদরবারে তুলে ধরেছেন, তা দেখে মুগ্ধ ফ্যাশন দুনিয়া। আম্বানি-কন্যার এই লুক প্রমাণ করে দিল যে, ভারতীয় কারুশিল্পের সমকক্ষ বিশ্বে আর দ্বিতীয়টি নেই।