২৫ শে বৈশাখই বাংলার নয়া মুখ্যমন্ত্রীর শপথ, মোদী কি আসবেন? ফাঁস বড় আপডেট

বাংলায় ১৫ বছরের ঘাসফুল জমানার অবসান। ২০৬টি আসন নিয়ে বিপুল জনমতের ভিত্তিতে নবান্ন দখল নিশ্চিত করেছে ভারতীয় জনতা পার্টি। অন্যদিকে, মাত্র ৮১টি আসনে থমকে গিয়েছে তৃণমূলের জয়রথ। এখন রাজ্যবাসীর নজর কেবল একটিই প্রশ্নের দিকে— কে হচ্ছেন বাংলার পরবর্তী মুখ্যমন্ত্রী? আর কবেই বা হবে সেই বহু প্রতীক্ষিত শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান?
বিজেপি সূত্রের খবর, আগামী ৯ মে অর্থাৎ ২৫শে বৈশাখ, কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তীর পুণ্য লগ্নেই বাংলার নতুন সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠিত হতে পারে। খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কথায় সেই ইঙ্গিতই মিলেছে।
৯ মে-র সেই মাহেন্দ্রক্ষণ
বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, পঁচিশে বৈশাখ দিনটিকে সামনে রেখেই শপথগ্রহণের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বিজয় ভাষণে বলেন, “আগামী ৯ মে খুব বেশি দূরে নয়। সেদিন থেকেই রবি ঠাকুরের আদর্শে চলার সূত্রপাত হবে। বাংলার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য বিজেপি দিন-রাত এক করে দেবে।” সূত্রের খবর, এই মেগা শপথ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছাড়াও উপস্থিত থাকতে পারেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এবং নিতিন নবীন সহ কেন্দ্রীয় একাধিক হেভিওয়েট নেতা।
কে হচ্ছেন বাংলার ‘ভূমিপুত্র’ মুখ্যমন্ত্রী?
মুখ্যমন্ত্রী পদের নাম নিয়ে এখন গেরুয়া শিবিরের অন্দরমহলে টানটান উত্তেজনা। অমিত শাহ ভোটের প্রচারেই স্পষ্ট করে দিয়েছিলেন, “বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হবেন এই মাটিরই সন্তান, যিনি বাংলা মাধ্যমে পড়াশোনা করেছেন।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার এক ধাপ এগিয়ে জানিয়েছিলেন, মুখ্যমন্ত্রী হবেন একজন ‘আমিষভোজী’।
বর্তমানে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে চারজন হেভিওয়েটের নাম নিয়ে জোর জল্পনা চলছে:
-
শুভেন্দু অধিকারী: ভবানীপুর ও নন্দীগ্রাম— দুই কেন্দ্রেই জয়ী হয়ে এবং মমতাকে সরাসরি হারিয়ে তিনি এই মুহূর্তে জনপ্রিয়তার শীর্ষে।
-
শমীক ভট্টাচার্য: দলের বৌদ্ধিক মুখ এবং রাজ্য সভাপতি হিসেবে তাঁর নামও রয়েছে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
-
দিলীপ ঘোষ: দলের ‘স্ট্রংম্যান’ হিসেবে পরিচিত দিলীপ ঘোষের লড়াকু মেজাজকেও গুরুত্ব দিচ্ছে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
-
নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হিসেবে তাঁর নামটিও দৌড়ে পিছিয়ে নেই।
তৃণমূলের দাপট কমিয়ে বাংলার মসনদে এখন কার অভিষেক হয়, তা জানতে আপাতত নজর ৯ মে-র দিকে। রবীন্দ্রজয়ন্তীর ভোরেই কি বাংলা পাবে তার নতুন অভিভাবককে? উত্তর পাওয়ার অপেক্ষা আর মাত্র কয়েক দিনের।