“২০২১-এর পুনরাবৃত্তি হবে না, অপ্রত্যাশিত ফলের জন্য তৈরি থাকুন!” ভোটগণনার আগে শমীকের হুঙ্কারে কাঁপছে রাজ্য!

রাত পোহালেই পশ্চিমবঙ্গের ২৯৩টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভাগ্য নির্ধারণ। একদিকে চতুর্থবার ক্ষমতায় ফেরার স্বপ্নে বিভোর তৃণমূল শিবির, অন্যদিকে ‘অপ্রত্যাশিত’ জয়ের দাবিতে অনড় বিজেপি। রবিবার গণনার আগের সন্ধ্যায় রাজ্য বিজেপি সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে নতুন করে চড়েছে রাজনীতির পারদ।
শমীকের হুঙ্কার ও ১৫ দিনের ডেডলাইন: বিজেপি রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এদিন স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “২০২১ সালের পুনরাবৃত্তি এবার আর হবে না। সব গণনাকেন্দ্রে কেন্দ্রীয় বাহিনী এবং বিজেপির এজেন্টরা থাকবে।” তিনি আরও দাবি করেন, জনমত যাতে লুঠ না হয়, সেদিকে কড়া নজর রাখবে দল। শুধু তাই নয়, রাজ্য সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে শমীক বলেন, “নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার ১৫ দিনের মধ্যেই প্রকাশ করা হবে যে, বর্তমান সরকার জনবিরোধী সিদ্ধান্ত টিকিয়ে রাখতে মানুষের করের কত টাকা খরচ করেছে।”
লোডশেডিং তত্ত্বে পাল্টা আক্রমণ: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন যে, গণনার সময় ‘লোডশেডিং’ করে কারচুপি করা হতে পারে। জলপাইগুড়িতে তৃণমূল কর্মীদের ট্রান্সফর্মার পাহারা দেওয়ার ঘটনাকেও কটাক্ষ করেছেন শমীক। তিনি বলেন, “মুখ্যমন্ত্রী বরং নজর রাখুন যেন এবার ভবানীপুরে লোডশেডিং না হয়। সেখানে যতই আলো জ্বলুক, ফলাফল এবার তৃণমূলের পক্ষে যাবে না।”
সমীক্ষা বনাম বাস্তবতা: এগজিট পোল বা বুথ ফেরত সমীক্ষা নিয়ে মুখ খুলেছেন বিজেপি সভাপতি। তাঁর দাবি, “সব প্রত্যাশা ছাপিয়ে আগামীকাল এক অপ্রত্যাশিত ফল আসতে চলেছে। সমীক্ষার সঙ্গে বাস্তব ফলাফলের কোনও মিল থাকবে না।”
নিরাপত্তার লৌহবর্ম: কালকের গণনার জন্য রাজ্যজুড়ে তৈরি করা হয়েছে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা বলয়। ক্ষুদিরাম অনুশীলন কেন্দ্র থেকে সাখাওয়াত মেমোরিয়াল—প্রতিটি স্ট্রংরুম এখন কেন্দ্রীয় বাহিনীর ঘেরাটোপে। কোনো কোনো জায়গায় দু’মানুষ উঁচু গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে এলাকা। দুর্গাপুরে পুলিশ মাইকিং করে শান্তি বজায় রাখার আবেদন জানাচ্ছে। তবে শমীকের এই ‘অপ্রত্যাশিত’ ফলের দাবি এবং তৃণমূলের ‘ট্রান্সফর্মার পাহারা’—সব মিলিয়ে আগামীকাল যে এক টানটান উত্তেজনার দিন হতে চলেছে, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।