মধুচন্দ্রিমার দ্বিতীয় দিনেই মৃত্যুঘণ্টা! জাপানে কোমায় যাওয়া টেক্সাসের সেই নার্সের শরীরে অলৌকিক বদল

জীবন আর মৃত্যুর মাঝে ছিল মাত্র কয়েক মুহূর্তের ব্যবধান। যে মধুচন্দ্রিমা হওয়ার কথা ছিল জীবনের সবচেয়ে সুখের স্মৃতি, তাই হয়ে দাঁড়িয়েছিল এক দুঃস্বপ্ন। কিন্তু বিজ্ঞান আর প্রার্থনার জোরে সেই খাদের কিনারা থেকেই যেন ফিরে এলেন ২৭ বছর বয়সী আমেরিকান নার্স সারা ড্যান। জাপানে ঘুরতে গিয়ে কোমায় চলে যাওয়া সারার বর্তমান শারীরিক অবস্থা এখন চিকিৎসকদেরও অবাক করছে।

মধুচন্দ্রিমার মাঝপথেই বিপর্যয়:
গত ৯ই এপ্রিল জাপানে মধুচন্দ্রিমা যাপনের দ্বিতীয় দিনেই আচমকা অসুস্থ হয়ে পড়েন নববিবাহিতা সারা। হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকরা জানান, তাঁর লিভার বিকল (Liver Failure) হয়ে গিয়েছে। দ্রুত তাঁকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়। বেশ কয়েক সপ্তাহ গভীর কোমায় আচ্ছন্ন থাকার পর তাঁর বেঁচে থাকার আশা ক্ষীণ হয়ে আসছিল।

মৃত্যুঞ্জয়ী লড়াই ও টেক্সাসে প্রত্যাবর্তন:
গত ২১শে এপ্রিল সারাকে বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে জাপান থেকে টেক্সাসে নিয়ে আসা হয়। সেখানে চিকিৎসার কয়েক দিনের মধ্যেই মিরাকল ঘটতে শুরু করে। পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, সারা এখন তাঁর মায়ের হাত শক্ত করে চেপে ধরছেন। কেউ কথা বললে তিনি মাথা নেড়ে সাড়া দিচ্ছেন। গত ৩০শে এপ্রিল তাঁর চাচা খাং লে সোশ্যাল মিডিয়ায় সুখবরটি শেয়ার করেন—সারাকে এখন লাইফ সাপোর্ট থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তিনি নিজেই শ্বাস নিচ্ছেন।

আবেগঘন সেই প্রথম পদক্ষেপ:
সবচেয়ে আবেগঘন মুহূর্তটি আসে যখন চিকিৎসকদের সাহায্যে সারা বিছানা থেকে উঠে দাঁড়ান এবং নিজে থেকে প্রথম পদক্ষেপ নেন। দীর্ঘদিনের নীরবতা ভেঙে তিনি এখন নিজের আবেগ প্রকাশ করতে পারছেন। কখনো অঝোরে কাঁদছেন, আবার প্রিয়জনদের হাস্যকৌতুক শুনে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ছেন। যদিও তিনি এখনও কথা বলতে বা নিজে থেকে খাবার খেতে পারছেন না এবং তাঁর স্মৃতিশক্তি কিছুটা অস্থিতিশীল, তবুও এই অগ্রগতিকে ‘বিজয়’ হিসেবেই দেখছেন তাঁর পরিবার।

বিশ্ববাসীর ভালোবাসা ও তহবিল:
সারার এই আকাশছোঁয়া চিকিৎসা খরচ মেটাতে এগিয়ে এসেছেন বিশ্বের অগণিত মানুষ। ‘গো-ফান্ড-মি’ (GoFundMe) পেজের মাধ্যমে ১ লক্ষ ৮৭ হাজার মার্কিন ডলারেরও বেশি সংগৃহীত হয়েছে। সারার পরিবার জানিয়েছে, সাধারণ মানুষের এই অকৃপণ দান এবং ভালোবাসা সারার লড়াইকে অনেক সহজ করে দিয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে এখনও দীর্ঘ পথ বাকি থাকলেও, সারা এখন তাঁর প্রিয়জনদের মাঝে ফিরে আসার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছেন।